ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি – জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার চেয়ে ফেসবুকে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন তার স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দেওয়া ওই পোস্টে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন—ওসমান হাদির হত্যার বিচার কি আদৌ হবে? একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি না আসা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
ইনানীতে নিয়ন্ত্রণহীন গ্যাসের আগুন ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎহীন ৩ হাজার ৮০০ পরিবার
পোস্টে রাবেয়া ইসলাম সম্পা লেখেন, “বিচার হবে না—এই শব্দটাই মাথায় আনা যাবে না। বিচার হতেই হবে, যে কোনো মূল্যে। বিচার আদায় না হলে ওসমান হাদিরা, বিপ্লবী বীরেরা এ দেশে আর জন্মাবে না।” তবে বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কেন—সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
ওসমান হাদির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, একটি অনুষ্ঠানে হাদি রবীন্দ্রনাথের দুটি লাইন উদ্ধৃত করেছিলেন— ‘সহজ করে বলতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে।’ এরপর তিনি বলেন, “যুক্তি-তর্কে যাচ্ছি না। শুধু এটুকুই বলি—আপনারাও জানেন কেন সব সহজে হচ্ছে না। মনে রাখবেন, ওসমান হাদি বলে গিয়েছেন—আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ। মুমিনের জীবন মানেই লড়াই ও সংগ্রাম।”
ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে শহীদ ওসমান হাদির কিছু ব্যক্তিগত কথাও পোস্টে তুলে ধরেন তার স্ত্রী। তিনি লেখেন, “ওসমান হাদি বলতো—‘আমার প্রথম সন্তান ইনকিলাব মঞ্চ, দ্বিতীয় সন্তান ফিরনাস। পোলাপানগুলারে বেতন দেই না, ঠিকভাবে খাবারও খেতে পারে না। নিঃস্বার্থভাবে আমার সঙ্গে লেগে থাকে। আমার তো ওদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে হবে।’”
উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের একজন সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণাকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে দুর্বৃত্তরা চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এনএন/ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন