ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি – আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন (ইইউ ইওএম) সারাদেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে তারা আজ (শনিবার) থেকেই দেশের ৬৪ জেলায় কাজ শুরু করেছেন।
কানাডার নতুন বাজেটে কার ভাগ্যে কতটা প্রাপ্তি
এ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে সংক্ষিপ্ত একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে ইইউ ইওএমের উপপ্রধান পর্যবেক্ষক ইনতা লাসে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা মিশনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের পর্যবেক্ষণ ও মাঠের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি জানান, ইইউ ইওএম দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভারসাম্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়।
দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিবিড়ভাবে দেখবেন। একই সঙ্গে ঢাকায় থাকা মূল বিশেষজ্ঞ দলের বিশ্লেষণমূলক কাজেও সহায়তা করবেন।
বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন মোতায়েন করা হয়েছে। মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইইয়াবস। তিনি গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশনের কার্যক্রম শুরু করেন।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, মিশনের তৎপরতা তত বাড়ানো হবে। তখন আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মাঠে নামবেন। তাদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরাও যুক্ত হবেন। তারা ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
এ ছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দলও এই মিশনে অংশ নেবে। সব মিলিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনে ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক কাজ করবেন।
ইইউ ইওএম আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এরপর পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হলে সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন কঠোর আচরণবিধি মেনে কাজ করে। নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করাই তাদের মূল নীতি। ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গৃহীত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মিশনটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এনএন/ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন