ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি – বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনকেই রোহিঙ্গা সঙ্কটের একমাত্র বাস্তব ও টেকসই সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। গত বুধবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন তাঁর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
সাক্ষাতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সহায়তা কার্যক্রমে অর্থায়ন কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শিবিরগুলোতে স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন। অধ্যাপক ইউনূস বলেন যে অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি আয়োজন করলেও রোহিঙ্গা সঙ্কট এখনো প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন যে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের শিবিরে অবস্থান কোনো সমাধান হতে পারে না এবং এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে নানা ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি বলে তিনি মত দেন।
ইরান সংঘাত ও মার্কিন রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ: ট্রাম্প ও ওবামার মুখোমুখি অবস্থান
প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন যে সমস্যার শুরু মিয়ানমারে এবং সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। বৈঠকে ভাসানচরের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়েও আলোচনা হয়। তিনি জানান যে ভাসানচর থেকে অনেক শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন যা দেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা জানান যে বাংলাদেশ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং নারী ও শিশুর সুরক্ষায় পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬ এর চূড়ান্ত ও নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে সংঘটিত হেনস্তাকেও এখন থেকে যৌন হয়রানির আওতায় আনা হয়েছে এবং তা শাস্তির যোগ্য বলে গণ্য হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয় যে বৈঠকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অধ্যাদেশ ২০২৬ এর খসড়া চূড়ান্ত এবং বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সংঘনিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়াও বৈঠকে প্রতি বছর ২৩ মার্চকে বিএনসিসি দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে ক্যারিবিয় দেশ গায়ানায় বাংলাদেশের একটি নতুন কূটনৈতিক মিশন খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং ২০২৫ থেকে ২০২৮ সময়কালের জন্য আমদানিনীতি আদেশের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে।




মন্তব্য করুন