হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

বিএনপি কি বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারবে?

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন


ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশে প্রায় ১৭ বছর পর মানুষ সুষ্ঠু ও শান্তভাবে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জোট পেয়েছে ২১২ আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ইসলামী জোট ৭৭, স্বতন্ত্র ৭ এবং অন্যরা ১ আসনে জয় পেয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরছে দলটি।

একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফেরার সাত সপ্তাহের মাথায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আরও পড়ুন

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর, আগের পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য নয়

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা-র পতন ঘটে। এরপর দেশে ফেরার সুযোগ পান তারেক রহমান। তিনি ২০০৮ সালে দেশ ছেড়েছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তখনই তিনি লন্ডনে যান।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার কিছুদিনের মধ্যেই তার মা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র মৃত্যু হয় এবং পরে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত থাকেন। নির্বাচনে বড় জয়ের পর এখন তার নেতৃত্বে সরকার গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে বিএনপি।

এবারের জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হয়েছিল। সেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ থেকে নিম্নস্তরের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এবং নতুন উচ্চকক্ষ গঠনসহ নানা পরিবর্তনের পক্ষে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ মানুষ মত দিয়েছেন। এতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আশা করা হচ্ছে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু হলে সংসদীয় কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে।

তার অনুপস্থিতিতেই জুলাই-আগস্টের ঘটনার মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং তার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা হয়। গত ১৮ মাস অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ চালিয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও গণতন্ত্র পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে এখনো অনেক পথ বাকি। নানা আলোচনা-সমালোচনার পর ভোটাররা পুরোনো দল বিএনপিকেই বেছে নিয়েছেন।

২০০০ সালের শুরুতে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে টানা পাঁচ বছর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। পারিবারিকভাবে রাজনীতিতে আসা তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ উঠেছে, যদিও তিনি সব অস্বীকার করেছেন।

দেশে ফেরার পর নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। এখন তার সামনে কঠিন পরীক্ষা—তিনি কথাগুলো বাস্তবে দেখাতে পারেন কি না।

২০২৪ সালের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া জেন-জি প্রজন্মের প্রার্থীরা প্রত্যাশামতো ফল না পেলেও পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি। তাদের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করায় অনেক সমর্থক হতাশ হয়েছেন এবং কিছু প্রার্থী দল ছেড়ে স্বতন্ত্র হয়েছেন।

নতুন সরকারের সামনে বড় কিছু সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিএনপি বারবার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাই মানুষ আশা করছে তারা সেগুলো বাস্তবায়ন করবে।

ভোটে মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখে বলা যায় দেশে ভোট দেওয়ার পরিবেশ ফিরেছে। কিন্তু নতুন সরকার বড় দাবিগুলো পূরণ করতে না পারলে হতাশা তৈরি হবে। বিএনপির নেতৃত্বে সরকার সত্যিই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এনএন/ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

জাতীয়
Card Image

বিএনপি কি বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারবে?

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

বিএনপি কি বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারবে?

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন
Print Image
[ad_1] ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশে প্রায় ১৭ বছর পর মানুষ সুষ্ঠু ও শান্তভাবে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জোট পেয়েছে ২১২ আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ইসলামী জোট ৭৭, স্বতন্ত্র ৭ এবং অন্যরা ১ আসনে জয় পেয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরছে দলটি।একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফেরার সাত সপ্তাহের মাথায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা-র পতন ঘটে। এরপর দেশে ফেরার সুযোগ পান তারেক রহমান। তিনি ২০০৮ সালে দেশ ছেড়েছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তখনই তিনি লন্ডনে যান।গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার কিছুদিনের মধ্যেই তার মা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র মৃত্যু হয় এবং পরে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত থাকেন। নির্বাচনে বড় জয়ের পর এখন তার নেতৃত্বে সরকার গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে বিএনপি।এবারের জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হয়েছিল। সেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ থেকে নিম্নস্তরের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এবং নতুন উচ্চকক্ষ গঠনসহ নানা পরিবর্তনের পক্ষে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ মানুষ মত দিয়েছেন। এতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আশা করা হচ্ছে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু হলে সংসদীয় কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে।তার অনুপস্থিতিতেই জুলাই-আগস্টের ঘটনার মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং তার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা হয়। গত ১৮ মাস অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ চালিয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও গণতন্ত্র পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে এখনো অনেক পথ বাকি। নানা আলোচনা-সমালোচনার পর ভোটাররা পুরোনো দল বিএনপিকেই বেছে নিয়েছেন।২০০০ সালের শুরুতে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে টানা পাঁচ বছর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। পারিবারিকভাবে রাজনীতিতে আসা তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ উঠেছে, যদিও তিনি সব অস্বীকার করেছেন।দেশে ফেরার পর নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। এখন তার সামনে কঠিন পরীক্ষা—তিনি কথাগুলো বাস্তবে দেখাতে পারেন কি না।২০২৪ সালের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া জেন-জি প্রজন্মের প্রার্থীরা প্রত্যাশামতো ফল না পেলেও পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি। তাদের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করায় অনেক সমর্থক হতাশ হয়েছেন এবং কিছু প্রার্থী দল ছেড়ে স্বতন্ত্র হয়েছেন।নতুন সরকারের সামনে বড় কিছু সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিএনপি বারবার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাই মানুষ আশা করছে তারা সেগুলো বাস্তবায়ন করবে।ভোটে মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখে বলা যায় দেশে ভোট দেওয়ার পরিবেশ ফিরেছে। কিন্তু নতুন সরকার বড় দাবিগুলো পূরণ করতে না পারলে হতাশা তৈরি হবে। বিএনপির নেতৃত্বে সরকার সত্যিই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না এখন সেটাই দেখার বিষয়।এনএন/ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ [ad_2]

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×