ওয়াশিংটন, ১৪ ফেব্রুয়ারি – মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিয়ে উদ্বিগ্ন ইউরোপকে আশ্বস্ত করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ট্রান্সআটলান্টিক জোটকে পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র বিচ্ছিন্ন হতে চায় না, বরং পুরনো বন্ধুত্ব নবায়ন করে মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
শনিবার জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে রুবিওর কণ্ঠে ছিল সমঝোতার সুর, যা বিগত কয়েক মাসের টানাপড়েন প্রশমিত করার ইঙ্গিত দেয়।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক মন্তব্য এবং মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে বিভিন্ন বিদ্রুপাত্মক বক্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল। তবে রুবিও এদিন পুনরুজ্জীবিত জোট গঠনের আহ্বান জানান এবং একটি শক্তিশালী ইউরোপ দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের একই সঙ্গে পথ চলা উচিত। অবশ্য মিত্রতার বার্তা দিলেও অভিবাসন ইস্যুতে তিনি প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
রুবিও উল্লেখ করেন যে বড় আকারের অভিবাসন পশ্চিমা বিশ্বের সমাজ কাঠামো বদলে দিচ্ছে এবং অস্থিরতা তৈরি করছে যা একটি বিশাল সংকট। তিনি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রকে একই মহান সভ্যতার উত্তরাধিকারী হিসেবে অভিহিত করে এই সভ্যতা রক্ষায় ইউরোপের সক্রিয় অংশগ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রুবিওর এই ভাষণ গত বছরের তুলনায় মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ঠিক এক বছর আগে একই মঞ্চে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইউরোপের নীতিগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে ইউরোপকে সভ্যতার পতনের হুমকিতে থাকা মহাদেশ হিসেবে বর্ণনা করায় দুই পক্ষের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। এর সঙ্গে গত মাসে ট্রাম্প কর্তৃক ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড অঞ্চল নিয়ে হুমকির বিষয়টিও উত্তেজনা বাড়িয়েছিল।







