পশ্চিম তীর, ১৬ ফেব্রুয়ারি – পশ্চিম তীরে জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল সরকার। এই পদক্ষেপকে আরব দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সমালোচকেরা বিশাল ভূমি দখল হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো স্বচ্ছভাবে এবং সম্পূর্ণভাবে জমির মালিকানা নির্ধারণ করে আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করা। তাদের দাবি অনুযায়ী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় বেআইনিভাবে জমি নিবন্ধনের প্রেক্ষাপটে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে মিশর, কাতার ও জর্ডান এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেছে।
জাপানের সঙ্গে ২৩টি বড় চুক্তি ও স্মারক সই: ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ
মিশরের সরকার এক বিবৃতিতে বিষয়টিকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার লক্ষ্যে একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। কাতার জানিয়েছে যে পশ্চিম তীরের জমিকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে রূপান্তরের এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার হরণ করবে।
প্যালেস্টাইন অথরিটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছে এটি কার্যত সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার সূচনা এবং সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ভিত্তি দুর্বল করার একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণবিরোধী সংগঠন পিস নাও এই সিদ্ধান্তকে বিশাল ভূমি দখল বা মেগা ল্যান্ড গ্র্যাব হিসেবে অভিহিত করেছে। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে যে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরে জমি নিবন্ধন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে, যেই যুদ্ধের মাধ্যমেই ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে নিয়েছিল।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া কেবল এরিয়া সি এলাকায় কার্যকর হবে যা পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীরকে তাদের ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে কিন্তু ইসরায়েলের ধর্মীয় ডানপন্থীরা এই অঞ্চলটি নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আগ্রহী।




মন্তব্য করুন