জাকার্তা, ৯ মার্চ – ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বর্জ্য ফেলার স্থানে ভয়াবহ ভূমিধসে ট্রাক ও খাবারের দোকান চাপা পড়ে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ সোমবার জানিয়েছে নিখোঁজ থাকা আরো অন্তত পাঁচজনের সন্ধানে জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে রাজধানী জাকার্তার বাইরে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বান্তারগেবাং ল্যান্ডফিলে রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে এই মর্মান্তিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে উদ্ধারকারী দল ভারী যন্ত্রপাতি ও ব্যাকহোর সাহায্যে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পথ তৈরির কাজ করছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের অবস্থান শনাক্ত করতে বিশেষায়িত অনুসন্ধানী কুকুর মোতায়েন করা হয়েছে।
ইনানীতে নিয়ন্ত্রণহীন গ্যাসের আগুন ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎহীন ৩ হাজার ৮০০ পরিবার
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই এলাকায় টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে ভারী বর্ষণের পর এই ধসের সৃষ্টি হয়। জাকার্তা এবং এর আশেপাশের উপশহরগুলোতে প্রায় চার কোটি ২০ লাখ মানুষের বসবাস। এই বিপুল জনসংখ্যার এলাকা থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ১৪ হাজার টন বর্জ্য তৈরি হয়। স্থানীয় পরিবেশ সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন বান্তারগেবাং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্মুক্ত ল্যান্ডফিল।
এটি ১১০ হেক্টরেরও বেশি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এবং সেখানে প্রায় পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টন বর্জ্য স্তূপাকার হয়ে আছে। পরিবেশমন্ত্রী হানিফ ফাইসোল নুরোফিক এই দুর্ঘটনার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ২০০৮ সালে উন্মুক্ত ল্যান্ডফিল নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করা হলেও সেখানে বেআইনিভাবে বর্জ্য জমা করতে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় তিনি সম্প্রচারমাধ্যম কমপাস টিভিকে বলেন বান্তারগেবাং সরাসরি জাকার্তা প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হয় তাই এর সম্পূর্ণ দায়ভার তাদেরই বহন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন এই বিপর্যয়কর ঘটনা আমাদের সবার জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হওয়া উচিত যাতে জাকার্তা প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো সতর্ক করে বলেছিলেন ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এমন বেশিরভাগ ল্যান্ডফিল ২০২৮ সালের মধ্যে তাদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা অতিক্রম করবে।
এম ম/ ৯ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন