হরমুজ প্রণালি, ১৪ মার্চ – বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পথ সুগম করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ইরান সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রণালিটি দিয়ে সীমিত সংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে তেহরান।
শনিবার সংবাদ সংস্থা সিএনএনকে ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তেহরান এই বিষয়ে বিবেচনা করছে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত রাখা হয়েছে যে তেলের দাম পরিশোধ করতে হবে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে। এই পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিবহনে মার্কিন ডলারের আধিপত্য কমিয়ে আনার একটি বড় ইঙ্গিত। সাধারণত বিশ্ববাজারে তেলের লেনদেন মূলত মার্কিন ডলারে হয়ে থাকে।
ইনানীতে নিয়ন্ত্রণহীন গ্যাসের আগুন ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎহীন ৩ হাজার ৮০০ পরিবার
বর্তমানে শুধুমাত্র পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়ার তেলের লেনদেন রুবল বা ইউয়ানে সম্পন্ন হয়। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী তেল বাণিজ্যে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য চীন দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও ডলার এখনো বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে তার প্রাধান্য ধরে রেখেছে।
ইউয়ানের বিনিময়ে তেল বাণিজ্যের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গতিশীলতায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। এদিকে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে ইরানের খারগ দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ওই দ্বীপের সমস্ত সামরিক লক্ষ্যবস্তু পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই খারগ দ্বীপ থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। ২০২২ সালের জুলাই মাসে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ ঘোষণার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে।
এ এম/ ১৪ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন