ঢাকা, ২১ জুন – গাইবান্ধার সাঘাটায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বের জেরে ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে গলায় লোহার শাবল ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে রাজধানী ঢাকার বুক চিড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
আজ রোববার (২১ জুন) রাত ১০টা থেকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের শত শত নেতাকর্মী।
কানাডার নতুন বাজেটে কার ভাগ্যে কতটা প্রাপ্তি
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাইবান্ধা সাঘাটার বোনারপাড়া বাজারের উপজেলা চত্বরের চারমাথা মোড়ে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির একটি বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে বোনারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মুকুল এবং তার ভাই পলাশ চড়াও হন ওই ইউনিয়নের ছাত্রশিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর ওপর।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি:
- পলাশ নামের ওই যুবক চরম নৃশংসতায় সাইফুল্লাহ বারীর গলায় লোহার শাবল দিয়ে সজোরে আঘাত করেন।
- এ সময় সাইফুল্লাহকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বন্ধু সালাউদ্দিনকেও (৩০) এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়।
গাইবান্ধার এই হত্যাকাণ্ডের খবর ঢাকায় পৌঁছামাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে তাৎক্ষণিক আন্দোলনের ডাক দেয় ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর শাখা।
রাত ১০টার দিকে প্রথমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হন হাজারো নেতাকর্মী। সেখান থেকে একটি বিশাল ও ক্ষুব্ধ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেয়।
ঘটনাস্থল থেকে জানা গেছে, শিবিরের নেতাকর্মীরা শাহবাগ চত্বরের মাঝখানে বসে পড়ে চারপাশের রাস্তা অবরোধ করেন। এর ফলে শাহবাগের গুরুত্বপূর্ণ একদিকের যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত পৌনে ১২টা) খুনিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আলটিমেটাম দিয়ে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে শাহবাগ এলাকা।
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির মতো একটি সামাজিক বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং এভাবে লোহার শাবল দিয়ে গঁথিয়ে খুনের ঘটনায় স্তব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও দোষীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ নেটিজেনরা। এই ঘটনার পর গাইবান্ধার সাঘাটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।




মন্তব্য করুন