কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় গত তিনদিন ধরে হওয়া অব্যাহত বৃষ্টির পানি শতাধিক বসত ঘরে প্রবেশ করেছে। এছাড়া নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল না থাকায় বিশটিরও অধিক গ্রামের রাস্তা ঘাট জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে বিরামহীন বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানিতে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের ব্রীজ ও জনবসতি পূর্ণ এলাকা পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রশাসন কতৃক এসব এলাকার জনগণকে সচেতন ও সতর্ক না করলে যে কোন মুহূর্তে প্রানহানির মত ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা ।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ঈদগাঁও সদর ইউনিয়ন,জালালাবাদ,ইসলামপুর,ইসলামাবাদ ও পোকখালী ইাউনিয়নের শতাধিক ঘরে পানি,বেশ কিছু গ্রামে জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে।
উখিয়া থানা পুলিশের অভিযানে ১৫ জন গ্রেপ্তার
এছাড়াও একাধিক স্থানে পাহাড় ও ব্রিজ ধ্বসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাগিরপাড়া,মন্ডল পাড়া,৭ নং ওয়ার্ডে পাহাড় ধ্বসের শন্কা,আলমাছিয়া মাদ্রাসা সড়ক,মাইজপাড়া,বাজার সড়ক,জাগির পাড়া সড়কসহ পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে আছে।
ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল চৌধুরী জানান,ইউনিয়নের জাগিরপাড়া,মন্ডল পাড়া জলাবদ্ধ অবস্থায়,৭ নং ওয়ার্ডে পাহাড় ধ্বসের শন্কা,আলমাছিয়া মাদ্রাসা সড়ক,মাইজপাড়া,বাজার সড়ক,জাগির পাড়া সড়কসহ পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে আছে।
উপরোক্ত সব এলাকা ও রাস্তা ঘাটে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জাগির পাড়ার ৮/১০ টি বসত ঘরে পানি প্রবেশ করেছে।
পূর্বের পানি চলাচলের জায়গা গুলো বেদখল হয়ে যাওয়ায় মূলত এ অবস্থার সৃষ্টি। তিনি উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দ্রুত প্রতিকার কামনা করেন।
জালালাবাদ ইউনিয়নের ১,২,৩ ও ৭ নং ওয়ার্ডের পুরেো রাস্তা ঘাট জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাজার এলাকার বিশাল অংশ অত্র ইউনিয়নের হওয়ায় বৃহত্তর এ বাজারের পানি এসব ওয়ার্ডের রাস্তা ঘাটে জমে আছে। যা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বাজারমুখি মানুষের জীবন যাত্রাকে স্থবির করে ফলেছে।
জালালাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি জানান, চারটি ওয়ার্ডের রাস্তা ঘাট জলাবদ্ধ হয়ে পড়ায় জনগণের দূর্ভোগের শেষ নেই। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ঈদগাঁও নদীর অত্র ইউনিয়নের চারটি স্পটে ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে। ইউএনও মঙ্গলবার সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
তিনি আরো জানান, বিগত তিন বছরের হাট বাজার উন্নয়নে জমে থাকা টাকা যথাসময়ে উন্নয়নে ব্যবহার হলে এ পরিস্থিতি হতোনা। এছাড়া ঘনঘন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদলীকে তিনি উন্নয়নের প্রধান বাঁধা বলে জানান।
এদিকে মঙ্গলবার জালালাবাদের সওদাগর পাড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি ও স্থানীয় ইসলামি ছাত্র শিবির উপজেলা শিবির সভাপতি আবদুল্লাহর নেতৃত্বে পানিবন্দি পরিবার গুলোতে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন।
ইসলামপুর চেয়ারম্যান মওলানা দেলোয়ার হোসাইন জানান, পুরো ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুত এসব পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও সহায়তা না পৌছালে এসব পরিবারের সদস্যরা দূর্বিসহ জীবনের মুখোমুখি হবে।তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত মোস্তাক কামনা করেন।
ইসলামাবাদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত) জানান,তিনি মঙ্গলবার সংবাদ পেয়ে জলাবদ্ধ হয়ে পড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড গজালিয়া এবং ৭ নং ওয়ার্ড খোদাইবাড়ীর যে ৭/৮ টি বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে তা পরিদর্শন করেছেন।এছাড়া তিনি জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
পোকখালী ইউপি প্রশাসক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান,তিনি বিভিন্ন সূত্রে জেনেছেন, ইউনিয়ন জুড়ে শতাধিক বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছিল,পরে নেমে গেছে।
এদিকে ঈদগাঁও ইউপির ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম জানানা,জেলার গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ী জনপদ ঈদগাঁও,রামু ও পার্বত্য নাইক্যংছড়ি উপজেলার দুই লক্ষাধিক জনগণের নিয়মিত যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ঈদগাঁও-ঈদগড়- বাইশারি সড়কের ঈদগাঁও অংশের হিমছড়ি ব্রিজটা বিগত তিন দিনের অব্যাহত ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানিতে সড়কের এক পাশে বড় ধরণের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে ব্রীজের নীচের ঢালাই অংশ থেকে ব্যাপকহারে মাটি সরে যাওয়ায় যে কোন মুহূর্তে ব্রীজটি ধ্বসে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পুর্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে পাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ঈদগাঁও উপজেলা প্রকৌশলী (অ:দা:) আল মুইন শাহরিয়ার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান,বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমার কাছে অব্যাহত বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট উপজেলার সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন,কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল।
পরে পানি নেমে যায়।এক কথায় এখনো বন্যা বা জরুরি সহায়তা দেয়ারমত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।যে সব এলাকা এখনো জলাবদ্ধ আছে তা নিষকাশনে কাজ চলছে। তিনি আরো জানান,ধ্বসের ঝুঁকিতে থাকা ব্রিজটা রক্ষায় সেখানে মাটি দেয়া হচ্ছে।
উপজেলার সচেতন নাগরিকদের দাবি,দ্রুত সময়ে জলবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা না নিলে পানিবাহিত রোগসহ ডায়রিয়া, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে।তারা এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় সচেতনতা ও সতর্কতা সৃষ্টিতে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




মন্তব্য করুন