হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

মিয়ানমারে পাচারের প্রস্তুতিকালে ৫৪ বস্তা ফসফেট সার জব্দ, আটক ১

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ৫৪ বস্তা ফসফেট সার জব্দ করেছে পুলিশ।

এ সময় পাচারচক্রের এক সদস্যকে আটক করা হলেও অভিযানের খবর পেয়ে চক্রের আরও দুই সদস্য পালিয়ে যান। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে আটক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান, এসআই পলাশ বড়য়া এবং সঙ্গীয় ফোর্স উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে প্রথমে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কের গয়ালমারা এলাকায় ইসমাইল ও সোনা মিয়ার বাড়ির সামনে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তাদের বাড়ির পেছনের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত একটি টিনশেড গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ফসফেট সার উদ্ধার করা হয়। গুদাম থেকে মোট ৫৪ বস্তা ফসফেট সার জব্দ করা হয়, যা অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।

আরও পড়ুন

কানাডার নতুন বাজেটে কার ভাগ্যে কতটা প্রাপ্তি

অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে পালংখালী ইউনিয়নের চৌখালী এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. ইউনুছ (২৪)-কে আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর দুই অভিযুক্ত মো. ইসমাইল (২৮) ও মো. সোনা মিয়া (৩২) কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক ও পলাতকরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে সরকারি শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে সীমান্তবর্তী চোরাইপথ ব্যবহার করে মিয়ানমারে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ফসফেট সার সংগ্রহ করে নির্জন গুদামে মজুদ রাখতেন। পরে সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে এসব সার পাচার করা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, এই চক্রটি শুধু সার পাচারের সঙ্গে নয়, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় অন্যান্য অবৈধ বাণিজ্যেও জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় আটক ইউনুছ এবং পলাতক ইসমাইল ও সোনা মিয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার আটক আসামিকে কক্সবাজার আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫৪ বস্তা ফসফেট সার জব্দ এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সারগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করে রাখা হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পণ্য পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে সার, জ্বালানি, ভোগ্যপণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাচারের অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে।

সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও সংঘবদ্ধ চক্রগুলো নানা কৌশলে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।সীমান্তে পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি পাচারচক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

মিয়ানমারে পাচারের প্রস্তুতিকালে ৫৪ বস্তা ফসফেট সার জব্দ, আটক ১

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

মিয়ানমারে পাচারের প্রস্তুতিকালে ৫৪ বস্তা ফসফেট সার জব্দ, আটক ১

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক :: | প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন
Print Image
কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ৫৪ বস্তা ফসফেট সার জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় পাচারচক্রের এক সদস্যকে আটক করা হলেও অভিযানের খবর পেয়ে চক্রের আরও দুই সদস্য পালিয়ে যান। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে আটক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুত্রে জানা যায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান, এসআই পলাশ বড়য়া এবং সঙ্গীয় ফোর্স উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে প্রথমে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কের গয়ালমারা এলাকায় ইসমাইল ও সোনা মিয়ার বাড়ির সামনে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তাদের বাড়ির পেছনের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত একটি টিনশেড গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ফসফেট সার উদ্ধার করা হয়। গুদাম থেকে মোট ৫৪ বস্তা ফসফেট সার জব্দ করা হয়, যা অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে পালংখালী ইউনিয়নের চৌখালী এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. ইউনুছ (২৪)-কে আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর দুই অভিযুক্ত মো. ইসমাইল (২৮) ও মো. সোনা মিয়া (৩২) কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক ও পলাতকরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে সরকারি শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে সীমান্তবর্তী চোরাইপথ ব্যবহার করে মিয়ানমারে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ফসফেট সার সংগ্রহ করে নির্জন গুদামে মজুদ রাখতেন। পরে সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে এসব সার পাচার করা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, এই চক্রটি শুধু সার পাচারের সঙ্গে নয়, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় অন্যান্য অবৈধ বাণিজ্যেও জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আটক ইউনুছ এবং পলাতক ইসমাইল ও সোনা মিয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার আটক আসামিকে কক্সবাজার আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, "গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫৪ বস্তা ফসফেট সার জব্দ এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সারগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করে রাখা হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" স্থানীয় সূত্র জানায়, উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পণ্য পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে সার, জ্বালানি, ভোগ্যপণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাচারের অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও সংঘবদ্ধ চক্রগুলো নানা কৌশলে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।সীমান্তে পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি পাচারচক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×