হাসপাতালের কক্ষ থেকে কক্ষে ঘুরছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। চিকিৎসক-নার্সদের সঙ্গে কথা বলার পর থামলেন রোগীদের কাছে। চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে কি না, প্রয়োজনীয় ওষুধ মিলছে কি না—একান্তে জানতে চাইলেন তাঁদের কথা। বালুখালীর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ১০ আগস্টের সেই আকস্মিক পরিদর্শনে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত হলো মানুষের পাশে থাকার এমন এক সরল দৃশ্য।
সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে যান পান্না আক্তার। চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তিনি রোগীদের কাছ থেকে সরাসরি চিকিৎসাসেবার বিষয়ে জানতে চান। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না, তা-ও খোঁজ নেন।
হাসপাতালের পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবায় সন্তোষ প্রকাশ করে ইউএনও বলেন, রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগীদের হয়রানি না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা রোগীদের সঙ্গে স্থানীয় অসচ্ছল রোগীদেরও সাধ্য অনুযায়ী অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বালুখালীর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসাতেও রয়েছে নিয়মিত সেবা।
ফ্রেন্ডশিপের জেলা সরকারি লিয়াজোঁ সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর তারেক সিরাজ চৌধুরী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন ৩৬ হাজার ২৫৪ জন রোগী। এ সময়ে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬৬টি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭২৮টি সিজারিয়ান ও ৭৯২টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে।
উখিয়ায় চেকপোস্টে শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধের দাবি ছাত্রদলের
হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া স্থানীয় প্রসূতি খাদিজা বেগম বলেন, এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়া যায়। সেবার মানও সন্তোষজনক। অন্য জায়গায় চিকিৎসা করানোর খরচ তাঁর মতো অসচ্ছল মানুষের পক্ষে বহন করা কঠিন।
ফ্রেন্ডশিপের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. গোলাম রসুল বলেন, স্থানীয় ও রোহিঙ্গা—উভয় জনগোষ্ঠীকেই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও হাসপাতালটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের বালুখালীতে অবস্থিত হাসপাতালটি ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ফ্রেন্ডশিপের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
হাসপাতালে ইউএনওকে স্বাগত জানান ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার ও এসআরএইচআর সমন্বয়কারী ডা. মেরিনা বিনতে আলম, হসপিটাল ইনচার্জ ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা সরকারি লিয়াজোঁ সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর তারেক সিরাজ চৌধুরী, ইউএনএফপিএ প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. রেজওয়ান রাব্বি ও ফ্যাসিলিটি সমন্বয়কারী ইমাম হোসাইনসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: রোগীর পাশে ইউএনও পান্না আক্তার, শুনলেন তাঁদের কথা সম্পর্কিত তথ্য কী?
উত্তর: হাসপাতালের কক্ষ থেকে কক্ষে ঘুরছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। চিকিৎসক-নার্সদের সঙ্গে কথা বলার পর থামলেন রোগীদের কাছে। চিকিৎসা। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।




মন্তব্য করুন