দেশের নারী ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি স্বতন্ত্র অভিযোগ কমিটি গঠন করেছে বিসিবি। এছাড়া এই বিষয়ে ক্রিকেটারদের পূর্ণাঙ্গ ধারণা দিতে এরই মধ্যে একটি কর্মশালারও আয়োজন করেছে বোর্ড।
হাইকোর্টের ২০০৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত এই কমিটির কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে বিসিবির নিজস্ব কোনো কর্মকর্তা বা কর্মীকে রাখা হয়নি। যাতে যেকোনো তদন্ত প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ থাকে।
আপাতত চারজন সদস্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে এই কমিটি। পঞ্চম সদস্য হিসেবে খুব দ্রুতই একজন সাবেক ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পাঁচ সদস্যের এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। বিসিবির সবশেষ নির্বাচনের আগে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও নারী বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন তিনি।
কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু বৃহস্পতিবার
কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির, ব্যারিস্টার অনিতা গাজী রহমান ও জেরিন মাহমুদ হোসেন। এছাড়া সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চন্দ্রা ব্যানার্জি।
স্বতন্ত্র কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন বিসিবি পরিচালক ও বোর্ডের নারী ক্রিকেট বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু।
“এই কমিটি পুরোটাই নারীদের নিয়ে গঠিত, সুনির্দিষ্টভাবে নারীদের জন্যই। তাদের যত সমস্যা বা অন্য যত কিছু তারা তো আগে কোনদিন বলতে পারেনি। এখন এই কমিটির কাছে তারা নির্ভয়ে, নির্দ্বিধায় সবকিছু জানাতে পারবে, অভিযোগ করতে পারবে।
“যেকোনো অভিযোগ বা সমস্যার ব্যাপারে তথ্য পাওয়ার পর এই স্বতন্ত্র কমিটি আমাদের অর্থাৎ বোর্ডে মৌখিক বা লিখিতভাবে বিস্তারিত জানাবে। সেসব খতিয়ে দেখার পর আমরা ত্বরিত ব্যবস্থা নেবো। এই ইস্যুতে কোনোরকম সময় নষ্ট করা হবে না।”
“ক্রীড়াঙ্গনে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ: নীতিমালা সচেতনতা ও সংবেদনশীলতা” শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে বিসিবি।
জাতীয় ক্রিকেট লিগ খেলতে বর্তমানে একশর বেশি ক্রিকেটার আছেন কক্সবাজারে। তাদের নিয়ে বুধবার “ক্রীড়াঙ্গনে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ: নীতিমালা সচেতনতা ও সংবেদনশীলতা” শীর্ষক একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে বিসিবির নারী বিভাগ।
ওই কর্মশালায় খেলাধুলায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও সম্মানজনক ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ক্রিকেটারদের প্রয়োজনীয় ধারণা দেওয়া হয়।
এছাড়া ক্রিকেটারদের সঙ্গে নতুন কমিটির সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে শিগগির সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করবে বোর্ড। এর মাধ্যমে ক্রিকেটাররা যেকোনো প্রয়োজনে কোনো ধরনের দ্বিধা ছাড়া অভিযোগ জানাতে পারবেন।
গত বছরের নভেম্বরে জাহানারা আলমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তোলপাড় পড়ে যায় দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ও পেসার অভিযোগ করেন, নিউ জিল্যান্ডে ২০২২ বিশ্বকাপ চলার সময় তখনকার নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়াও মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে নানা সময়ে মানসিক নির্যাতন, যৌন হেনস্তা ও সেসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাজে আচরণ করার অভিযোগও তোলেন এই পেসার।
একইরকম অভিযোগ করেন তিনি নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে, একসময় যিনি ছিলেন সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের ব্যক্তিগত সহকারী। টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ডের আরও কজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন নারী ক্রিকেটে দেশের সফলতম পেসার।
জাহানারার অভিযোগের পর মুখ খুলতে শুরু করেন আরও বেশ কজন ক্রিকেটার। আলোড়ন পড়ে যাওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। এই কমিটির গঠন নিয়েও নানা সমালোচনার পর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয় দুজন। প্রথমে বিসিবি জানিয়েছিল, ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তবে পরে দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে সেই সময়ের বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ওই কমিটি।
জাহানারার করা সুনির্দিষ্ট চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটির প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি। পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিসিবির আওতাধীন সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয় মঞ্জুরুলকে। সাবেক এই পেসার পরে বিসিবির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দুটি রিট আবেদন করেছিলেন। হাই কোর্ট বুধবার সেগুলো খারিজ করে দিয়েছে।
আরও যাদের বিরুদ্ধে জাহানারার অভিযোগ ছিল, তাদের নিয়ে তখন কোনো কিছু জানায়নি বিসিবি। সেই তদন্ত প্রতিবেদনও আর প্রকাশ করা হয়নি। পরে তামিম ইকবাল বোর্ড সভাপতি হওয়ার পরও সেই প্রতিবেদন প্রকাশ্য করা হয়নি এখনও।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি নিয়ে সম্প্রতি দীর্ঘ এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘দা হুইসেল।’ সেখানে উঠে আসে ভয়াবহ সব তথ্য।
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: নারী ক্রিকেটারদের সুরক্ষায় বিসিবির স্বতন্ত্র কমিটি, কক্সবাজারে বিশেষ ওয়ার্কশপ সম্পর্কিত তথ্য কী?
উত্তর: দেশের নারী ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি স্বতন্ত্র অভিযোগ কমিটি গঠন করেছে বিসিবি। এছা। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।




মন্তব্য করুন