ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি – অতীতের অনেক নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনের মাঠের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার ও সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কিছুটা শঙ্কা কাজ করলেও নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো শঙ্কা দেখছে না। বরং সারাদেশে একটি উৎসবমুখর পরিবেশেই নির্বাচনী প্রচারণা চলছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার এসব কথা বলেন।
শাহজালাল বিমানবন্দরে ভেপ, সিগারেট, স্বর্ণালংকারসহ ৩২ লাখ টাকার পণ্য জব্দ
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের কোনোভাবেই কোনো বিশেষ পক্ষের হয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবেন। আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে তারা কেবল সাধারণ জনগণকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন। তবে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি বিশেষ কোনো পক্ষের হয়ে প্রচারণায় অংশ নেন, সেটি সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য হবে। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের কাজ করে যাচ্ছে।
নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের ওপর হামলা ও সহিংসতার শঙ্কা বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে ইসি আনোয়ারুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো শঙ্কা প্রকাশ করলেও আমরা মাঠপর্যায়ের খবর এবং পরিদর্শন শেষে আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি। ছোট কিংবা বড়, সব দলই আমাদের কাছে তাদের অভিযোগ বা পরামর্শ নিয়ে আসছে এবং আমরা সে অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির পাশাপাশি বিএনসিসিকেও মাঠে নামানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, গত ৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এই সময়ে ১২৮টি নির্বাচনী এলাকায় ১৪৪টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর বিপরীতে ৯৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এবার প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকারনামা জমা দিয়েছেন, যার ফলে নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ অতীতে দেখা যাওয়া পরিস্থিতির চেয়ে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন রয়েছে।




মন্তব্য করুন