তেহরান, ২৮ মার্চ – ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান বন্ধে আন্তর্জাতিক মহলের নানামুখী চেষ্টার মাঝেই ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদে একটি ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন।
ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর দাবি, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আঘাত করেছে, যা ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
ইরানে ফের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র হুংকার ট্রাম্পের—তেহরানের পাল্টা কড়া হুঁশিয়ারি
ইরানের আনবিক শক্তি সংস্থা এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে তারা জানিয়েছে যে এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও হামলার খবর পাওয়া গেছে, তবে সেখানে কোনো কারিগরি বা আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
শুক্রবার ছিল এই সংঘাতের ২৮তম দিন। এদিন মধ্য ইরানের খোন্দাব ভারী পানি কেন্দ্রসহ খুজেস্তান ও ইস্পাহানের দুটি বড় ইস্পাত কারখানায় হামলা চালানো হয়। তেহরানের আশপাশের এলাকা, কাশান ও আহভাজ শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। কোম শহরে হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১২০টিরও বেশি ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন এই প্রস্তাবকে একপেশে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কিছু পাল্টা শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে ইরানে তাদের এই অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। একইসঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের ইরানি পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করে একে অবৈধ ও বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন।
এনএন/ ২৮ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন