কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় টানা চারদিনের ভারি বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে পাঁচ শতাধিক ঘরে পানি প্রবেশ করেছে এবং অর্ধশতাধিক গ্রামের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। এ পর্যন্ত এসব দূর্গত এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোন সরকারী সহায়তা পৌঁছেনি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।এদিকে অব্যাহত জলাবদ্ধতার কারণে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে সচেতন জনগণ।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ঈদগাঁও সদর ইউনিয়নে শতাধিক , ইসলামাবাদে অর্ধশতাধিক ,ইসলামপুরে অর্ধশতাধিক, জালালাবাদে দেড় শতাধিক ও পোকখালী ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। অব্যাহত ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে গত চারদিন যাবত এ পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। ভারি বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানির কারণে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিচে নামতে না পারা এবং পানি নিষ্কাশনের স্থান গুলো দীর্ঘদিন যাবত বেদখল হয়ে যাওয়ার কারণে উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার আরো অবনতি হলে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি জমে থাকা পানির কারণে পানিবাহিত নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য সচেতনরা ।
উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি জানান,তার ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক বসত ঘরে পানি প্রবেশ করেছে।এসব পরিবারের অবস্থা খুবই নাজুক। অপরদিকে ঈদগাঁও বাজারের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাজার বাসীর জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।তিনি এ পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। ইউপি সদস্য কামাল হোসেন জানান,তার ওয়ার্ডের দূর্গতদের এখনো নিজস্ব উদ্যোগে সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
ঈদগাঁও চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী জানান, বাজারের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও এলাকার পানি নিষ্কাশনের স্থান গুলো দখল হয়ে যাওয়ায় ভারি বৃষ্টিপাতে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।তার ইউনিয়নে এক বসতঘরে পাহাড় ধ্বসে পড়েছে এবং বিশালাকার গাছ ভেঙে ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হলেও কোন হতাহত হয়নি। দূর্গতদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইউএনও মহোদয় ধ্বসে যাওয়া ঘর পরিদর্শন করে সহায়তা দিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমার প্রত্যাশায় টানা চতুর্থ দিনে কমল বিশ্ববাজারে তেলের দাম
ইসলামাবাদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, ভারি বৃষ্টিপাতের পানি জমে থাকায় ইউনিয়নে অর্ধ শতাধিক ঘর পানিবন্দি হয়ে আছে। দ্রুত এ পানি নেমে না গেলে এবং বৃষ্টি বন্ধ না হলে পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাবে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি সহায়তা কামনা করছেন।
ইসলামপুর চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসাইন জানান,তার ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের অবস্থা খুবই খারাপ ।এখানে অর্ধশতাধিক পরিবার তিনদিন যাবত পানিবন্দি হয়ে আছে। এরমধ্যে ১০টি মাটির ঘর পাহাড় থেকে নামা পানিতে ধ্বসে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার সকালে পরিদর্শন করেছেন।তিনি জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে এখনো পর্যন্ত দূর্গতরা সরকারি উল্লেখযোগ্য কোন সহায়তা না পেলেও বেসরকারি ভাবে গত পরশু থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, ব্যাক্তি উদ্যোগে ও বেসরকারি সংস্থা গুলো সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা দিচ্ছেন।যা খুবই অপ্রতুল। যার মধ্যে রয়েছে উপজেলা শিবির, সাবেক ছাত্রনেতা লায়েক ইবনে ফাজেল ও উপজেলা যুব মানবিক ফাউন্ডেশন।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা’র সাথে কথা হলে জানান, উপজেলায় এখনো বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে অব্যাহত ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টি বেশি হলে কিছু বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করে আবার কমলে নেমে যায়। তিনি গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেছেন এবং কিছু ক্ষতিগ্রস্তদের শুকনো খাবারও বিতরণ করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আবু তাহেরের কাছে জরুরি সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন,এখনো পর্যন্ত জরুরী সহায়তা পাননি তবে জলাবদ্ধতার কারণে কিছু পরিবারে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী মোবারক সাঈদ অবিলম্বে ঈদগাঁও উপজেলাকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণা করে দূর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত জরুরি সরকারি সহায়তা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।




মন্তব্য করুন