হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

উখিয়ার ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি কেলেঙ্কারি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় ও আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বৈধ রসিদ প্রদান করা হয়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি বোর্ড নির্ধারিত ৩৪১ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। একইভাবে ষষ্ঠ শ্রেণির ক্ষেত্রে বোর্ড নির্ধারিত ৯৮ টাকার বিপরীতে নেওয়া হয়েছে ৩০০ টাকা। এছাড়া ফরম ফিলাপের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ১,৮৩০ টাকার পরিবর্তে ২,৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৭৩০ টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৪৮ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এভাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব অর্থের বিপরীতে কোনো আনুষ্ঠানিক রসিদ দেওয়া হয়নি বলে দাবি অভিভাবকদের।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বিদ্যালয়ের ক্রয় কমিটি কার্যত অকার্যকর। কাগজে-কলমে কমিটি থাকলেও বাস্তবে প্রধান শিক্ষক নিজেই মালামাল ক্রয় করে ভাউচার প্রদর্শনের মাধ্যমে হিসাব উপস্থাপন করছেন। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন

উখিয়া থানা পুলিশের অভিযানে ১৫ জন গ্রেপ্তার

সচেতন মহলের মতে, এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম চৌধুরীর করা অভিযোগ ও মন্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি দ্রুত ভাইরাল হয়। তার পোস্টকে ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং অনেকেই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। ফলে ঘটনাটি এখন স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, “বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে সন্তানের ক্ষতি হতে পারে—এই আশঙ্কায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।” তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান মানিকের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

anwar

anwar

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

উখিয়া
Card Image

উখিয়ার ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি কেলেঙ্কারি

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

উখিয়ার ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি কেলেঙ্কারি

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক : | প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
Print Image
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় ও আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বৈধ রসিদ প্রদান করা হয়নি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি বোর্ড নির্ধারিত ৩৪১ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। একইভাবে ষষ্ঠ শ্রেণির ক্ষেত্রে বোর্ড নির্ধারিত ৯৮ টাকার বিপরীতে নেওয়া হয়েছে ৩০০ টাকা। এছাড়া ফরম ফিলাপের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ১,৮৩০ টাকার পরিবর্তে ২,৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৭৩০ টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৪৮ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এভাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব অর্থের বিপরীতে কোনো আনুষ্ঠানিক রসিদ দেওয়া হয়নি বলে দাবি অভিভাবকদের। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বিদ্যালয়ের ক্রয় কমিটি কার্যত অকার্যকর। কাগজে-কলমে কমিটি থাকলেও বাস্তবে প্রধান শিক্ষক নিজেই মালামাল ক্রয় করে ভাউচার প্রদর্শনের মাধ্যমে হিসাব উপস্থাপন করছেন। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম চৌধুরীর করা অভিযোগ ও মন্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি দ্রুত ভাইরাল হয়। তার পোস্টকে ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং অনেকেই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। ফলে ঘটনাটি এখন স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, “বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে সন্তানের ক্ষতি হতে পারে—এই আশঙ্কায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।” তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান মানিকের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×