ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। কে হবেন আগামীর কাণ্ডারি—এ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।
স্বাধীনতার পর থেকে আসনটি “লক্ষ্মী আসন” হিসেবে পরিচিত। যে দলের প্রার্থী এখানে জয়ী হয়েছেন, সেই দলই সরকার গঠন করেছে।
১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির হাত ঘুরে এসেছে এ আসন। আওয়ামী লীগের অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী, অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, আবদুর রহমান বদি, বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির আ হ আ গফুর চৌধুরী, আবদুল গনিসহ একাধিক জনপ্রতিনিধি এখানে নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শাহীন আক্তার পুনর্নির্বাচিত হন।
এই আসনের রাজনীতিতে বিএনপির ভরসার নাম এখনও সাবেক সাংসদ ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। মাত্র ২৬ বছর বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। এখন পর্যন্ত তিনি আটবার সংসদ নির্বাচনে লড়েছেন, এর মধ্যে চারবার জয়ী হয়েছেন (১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১) এবং চারবার হেরেছেন (১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৮)। এছাড়া ১৯৮৮, ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তে ভোট বর্জন করেন। জাতীয় সংসদের হুইপ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বিএনপির দুঃসময়ে ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সহচর হিসেবে দল পুনর্গঠনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এবং ভূমিকা রাখেন।
শাহজাহান চৌধুরী কক্সবাজার জেলায় উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নে ১৯৫২ সালে ৩১ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে সমাজতত্ত্ব নিয়ে বিএ (অনার্স) সম্পন্ন করেন। শাহজাহান চৌধুরী কক্সবাজার জেলা বিএনপির দুই বারের সভাপতি। তিনি বিএনপির তৎকালীন কক্সবাজার মহকুমা প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ন আহবায়ক ছিলেন এবং দলকে শক্তিশালী করার জন্য বিশাল ভুমিকা পালন করেন।
উখিয়া থানা পুলিশের অভিযানে ১৫ জন গ্রেপ্তার
দলীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফ বিএনপিতে তার জনপ্রিয়তার ধারে কাছে কেউ নেই। ক্লিন ইমেজ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অমায়িক আচরণ তাকে ভোটারদের কাছে এখনও গ্রহণযোগ্য করে রেখেছে। স্বাধীনতার পর উখিয়া উপজেলা থেকে নির্বাচিত একমাত্র সংসদ সদস্যও তিনি। সমসাময়িক নেতারা রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেও শাহজাহান চৌধুরী এখনও মাঠে সক্রিয়।
স্থানীয় সুশীল সমাজের অভিমত, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হলে তাকে হারানো হবে “শূন্য পায়ে হিমালয় ডিঙ্গানোর সমান।” দলীয় হাইকমান্ডও দীর্ঘদিন ধরে তার অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার ওপর আস্থা রাখছে।
নিজ আস্থার কথা জানিয়ে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “গুম-খুন থেকে বাঁচতে মানুষ বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। তাই উখিয়া-টেকনাফবাসী আমাকে আবারও ভোট দেবে।”
আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ভরসা যে আবারও এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ,তাতে কোন সন্দেহ নেই।




মন্তব্য করুন