হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

উখিয়া থানা দালাল-ঘুষখোরের অঘোষিত রাজত্ব

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন

উখিয়া পুলিশ বিভাগের মধ্যে দালাল সিন্ডিকেটের দাপট দিন দিন আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানায় যেকোনো জিডি বা মামলার প্রক্রিয়ার জন্য আসা সাধারণ নাগরিকদের টার্গেট করে অর্থ হাতানোর ঘটনা এ উপজেলায় নিত্যনৈমিত্তিক চিত্রে পরিণত হয়েছে।

পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া থানার এলাকায় অন্তত ডজনখানেক ব্যক্তি “দালাল” নামে পরিচিত। এদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘ এক দশক ধরে এই অসাধু ব্যবসাকে পেশা হিসেবে চালিয়ে আসছেন। তালিকাভুক্ত দালালদের মধ্যে আছেন — সুলতান,শাহজাহান, শাহাবউদ্দিন, ফারুক, জামালসহ আরও অনেকে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এসব দালাল থানার ওসির “মাইম্যান” পরিচয় ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের নানাভাবে হয়রানি ও অর্থ হাতিয়ে নেন।

উদাহরণ হিসেবে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একজন এনজিও কর্মকর্তা রিফাত উদ্দিন থানায় মোবাইল হারানোর জিডি করতে গেলে এক ব্যক্তি তাকে জিডি সহজে সম্পন্ন করে এক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইল উদ্ধার করার কথা বলে ৫ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। পরে জানা যায়, সেই ব্যক্তি থানার কেউ নয়। রিফাত উদ্দিন ঘটনাটি এড়িয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন

ইনানীতে নিয়ন্ত্রণহীন গ্যাসের আগুন ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎহীন ৩ হাজার ৮০০ পরিবার

সিন্ডিকেটের সঙ্গে থানার কিছু পুলিশ সদস্যের সম্পর্ক থাকার কথাও স্থানীয়দের অভিযোগে এসেছে। বলা হয়, এই নেটওয়ার্কের পেছনে আছেন কিছু পুলিশ কর্মকর্তা, কনস্টেবল ও ওসির বডিগার্ড পরিচয়ধারী।

উখিয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার তার ফেসবুকে লিখেছেন, “ওসির আশ্রয়ে উখিয়া থানা দালাল, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের আচরণ দেখে মনে হয়, এটি যেন অবৈধ অর্থ উপার্জনের অঘোষিত দরবার।”

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ দাবি করেছেন, “এই কথিত দালালরা আমার অফিসে আসার সুযোগ পায় না। আমি নিয়মিত আমার অফিসারদের সতর্ক করি যেন বাইরের চিহ্নিত দালালদের কোনোভাবে প্রশ্রয় না দেওয়া হয়।”

স্থানীয়রা মনে করেন, “থানা মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সেখানে যদি ভোগান্তি থাকে, তা অধিকার লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত। আশা করি, দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে অচিরেই থানায় নাগরিকবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসবে।”

উখিয়ার এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে, সীমান্ত উপজেলা হলেও নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

উখিয়া থানা দালাল-ঘুষখোরের অঘোষিত রাজত্ব

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

উখিয়া থানা দালাল-ঘুষখোরের অঘোষিত রাজত্ব

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
Print Image
উখিয়া পুলিশ বিভাগের মধ্যে দালাল সিন্ডিকেটের দাপট দিন দিন আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানায় যেকোনো জিডি বা মামলার প্রক্রিয়ার জন্য আসা সাধারণ নাগরিকদের টার্গেট করে অর্থ হাতানোর ঘটনা এ উপজেলায় নিত্যনৈমিত্তিক চিত্রে পরিণত হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া থানার এলাকায় অন্তত ডজনখানেক ব্যক্তি “দালাল” নামে পরিচিত। এদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘ এক দশক ধরে এই অসাধু ব্যবসাকে পেশা হিসেবে চালিয়ে আসছেন। তালিকাভুক্ত দালালদের মধ্যে আছেন — সুলতান,শাহজাহান, শাহাবউদ্দিন, ফারুক, জামালসহ আরও অনেকে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এসব দালাল থানার ওসির “মাইম্যান” পরিচয় ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের নানাভাবে হয়রানি ও অর্থ হাতিয়ে নেন। উদাহরণ হিসেবে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একজন এনজিও কর্মকর্তা রিফাত উদ্দিন থানায় মোবাইল হারানোর জিডি করতে গেলে এক ব্যক্তি তাকে জিডি সহজে সম্পন্ন করে এক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইল উদ্ধার করার কথা বলে ৫ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। পরে জানা যায়, সেই ব্যক্তি থানার কেউ নয়। রিফাত উদ্দিন ঘটনাটি এড়িয়ে গেছেন। সিন্ডিকেটের সঙ্গে থানার কিছু পুলিশ সদস্যের সম্পর্ক থাকার কথাও স্থানীয়দের অভিযোগে এসেছে। বলা হয়, এই নেটওয়ার্কের পেছনে আছেন কিছু পুলিশ কর্মকর্তা, কনস্টেবল ও ওসির বডিগার্ড পরিচয়ধারী। উখিয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার তার ফেসবুকে লিখেছেন, “ওসির আশ্রয়ে উখিয়া থানা দালাল, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের আচরণ দেখে মনে হয়, এটি যেন অবৈধ অর্থ উপার্জনের অঘোষিত দরবার।” উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ দাবি করেছেন, “এই কথিত দালালরা আমার অফিসে আসার সুযোগ পায় না। আমি নিয়মিত আমার অফিসারদের সতর্ক করি যেন বাইরের চিহ্নিত দালালদের কোনোভাবে প্রশ্রয় না দেওয়া হয়।” স্থানীয়রা মনে করেন, “থানা মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সেখানে যদি ভোগান্তি থাকে, তা অধিকার লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত। আশা করি, দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে অচিরেই থানায় নাগরিকবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসবে।” উখিয়ার এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে, সীমান্ত উপজেলা হলেও নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×