সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৫ উপলক্ষে কক্সবাজার ও বান্দরবানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫। পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসব এবং ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এ বছর কক্সবাজারের ৩১৭টি, বান্দরবানের ৩১টি ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১টি পূজামণ্ডপসহ মোট ৩৪৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। পূজামণ্ডপে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাবের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২টি পিকআপে ৯৬ জন সদস্য, ১১টি মোটরসাইকেলে ২২ জন সদস্য এবং সাদা পোশাকে ৪৫ জন গোয়েন্দা সদস্যসহ মোট ১৬৩ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। পূজা মণ্ডপের আশপাশে নিয়মিত টহল এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্টও বসানো হবে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধ, নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার উৎসাহিত করা হয়েছে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের ‘বার আউলিয়া’
শনিবার রাতে গণমাধ্যমে র্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নাশকতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাব সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সদরে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখা দিলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে চাই।”
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, ভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষও আনন্দে শরিক হন। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূজা মণ্ডপে স্বাস্থ্যসেবা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সুবিধার মতো প্রয়োজনীয় সহায়তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। পূজা উদযাপন পরিষদ ও মণ্ডপ কমিটির সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় সভা করা হচ্ছে। এবারের দুর্গোৎসব হবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে।”
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ উখিয়া উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দ্বীপন বিশ্বাস জানিয়েছেন, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই উদ্যোগে আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আশ্বস্তবোধ করছি। তিনি বলেন বলেন, উৎসবকে ঘিরে হাজারো মানুষ মণ্ডপে আসবেন। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাবের এ উদ্যোগ শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়দের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, প্রতিবছর পূজার সময় বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। তাই নিরাপত্তা জোরদার হলে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসব আরও আনন্দমুখর হয়ে উঠবে।




মন্তব্য করুন