হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

চার দশকে চট্টগ্রাম নগরের ১২০ পাহাড় উধাও

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

রবিবার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন

পাহাড়, নদী, সমুদ্র পরিবেষ্টিত এবং প্রাচ্যের রাণীখ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সেই জৌলুস এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে চলা পাহাড়গুলো প্রতিনিয়ত কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে। গত চার দশকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১২০টির মতো পাহাড় বিলুপ্ত হয়েছে। ৪০ বছর আগেও নগরীতে ২০০টি পাহাড় ছিল, যার ৬০ শতাংশ ইতিমধ্যে বিলুপ্ত। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ১৫টি পাহাড় কেটে ফৌজদারহাট-বায়েজিদ বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছে।

চট্টগ্রামের পাহাড় কাটা নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক এসএম সিরাজুল হক একটি বেসরকারি সংস্থার হয়ে ‘হিল কাটিং ইন অ্যান্ড অ্যারাউন্ড চিটাগং সিটি’ শীর্ষক গবেষণা করেন। ২০১১ সালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।

এতে বলা হয়, বেশিরভাগ পাহাড় কাটা হয় পাহাড়তলী, খুলশী, বায়েজিদ, লালখান বাজার মতিঝরনা ষোলশহর এবং ফয়’স লেকে। ১৯৭৬ থেকে ৩২ বছরে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের ৮৮টি পাহাড় সম্পূর্ণ এবং ৯৫টি আংশিক কেটে ফেলা হয় বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।

১৯৭৬ সালে নগরের পাঁচ থানা এলাকায় মোট পাহাড় ছিল ৩২ দশমিক ৩৭ বর্গকিলোমিটার। ২০০৮ সালে তা কমে হয় ১৪ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার। এ সময়ে ১৮ দশমিক ৩৪৪ বর্গকিলোমিটার পাহাড় কাটা হয়। এটা মোট পাহাড়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ। নগরের বায়েজিদ, খুলশী, পাঁচলাইশ, কোতোয়ালি ও পাহাড়তলী থানা এলাকায় এসব পাহাড় কাটা হয়। সবচেয়ে বেশি ৭৪ শতাংশ কাটা পড়ে পাঁচলাইশে।

আরও পড়ুন

মাদারীপুরে একের পর এক বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা

সিডিএ পাহাড় কেটে ফৌজদারহাট-বায়েজিদ বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছে। এই সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় ১৫টি পাহাড় কাটার অনুমতি নেয় তারা। ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করতে শর্ত লঙ্ঘন করায় পরিবেশ অধিদপ্তর সিডিএকে ১০ কোটির বেশি টাকা জরিমানা করে। সিডিএ এই সড়ক নির্মাণের পর বায়েজিদ থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বাইপাস সড়কের আশপাশে পাহাড় কাটার উৎসব শুরু হয়ে যায়, যা বর্তমানে চলমান।

জানা যায়, শহরের কাছে জঙ্গল সলিমপুর ও আলিনগর এলাকা ছিল একসময় পাহাড়ঘেরা নয়নাভিরাম গহীন সবুজে আচ্ছাদিত একটি অঞ্চল। সেখানে সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড় ছিল ৩ হাজার ১০০ একর। কিন্তু গত ২ যুগের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জনের চিহ্নিত ভূমিদস্যু বাহিনী জঙ্গল সলিমপুর এবং আলিনগর এলাকার পাহাড় কেটে আলাদা এক সাম্রাজ্য তৈরি করেছে। গড়ে তুলেছে দেশের ভেতরে আরেক দেশ। তাদের সহযোগী হিসেবে আছে আরও অন্তত ৩০০ জন দখলদার বাহিনী।

এই ভূমিদস্যুরা ২০০০ সাল থেকে যখন যে দল ক্ষমতায় ছিল, তখন সে দলের ব্যানার টাঙিয়ে নিজেদের সাম্রাজ্য সুদৃঢ় করেছে। তারা প্রতিনিয়ত সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড় কেটে প্লট বানিয়ে হাজার হাজার ছিন্নমূলবাসীর কাছে ভাড়া কিংবা দখল বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সে সাথে পাহাড়ের ভেতর ভূমিদস্যুরা গড়ে তুলেছিল অস্ত্র, সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালানের ভয়ংকর কয়েকটি আস্তানা। এদের মধ্যে আবার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে প্রতিনিয়ত চলতো সংঘর্ষ, বন্দুকযুদ্ধ, হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা।

বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলিউর রহমান বলেন, ইংরেজ শাসনের পর পাকিস্তানের ২৪ বছরে চট্টগ্রামে পাহাড়ের সংখ্যা কমেছে। স্বাধীনতার পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৮৮টি পাহাড় পুরোটাই বিলুপ্ত হয়েছে। একই সময়ে আংশিক কাটা হয়েছে ৯৫টি। এরপরের ১২ বছরে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পাহাড় নিধন।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

সারাদেশ
Card Image

চার দশকে চট্টগ্রাম নগরের ১২০ পাহাড় উধাও

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

চার দশকে চট্টগ্রাম নগরের ১২০ পাহাড় উধাও

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন
Print Image
পাহাড়, নদী, সমুদ্র পরিবেষ্টিত এবং প্রাচ্যের রাণীখ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সেই জৌলুস এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে চলা পাহাড়গুলো প্রতিনিয়ত কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে। গত চার দশকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১২০টির মতো পাহাড় বিলুপ্ত হয়েছে। ৪০ বছর আগেও নগরীতে ২০০টি পাহাড় ছিল, যার ৬০ শতাংশ ইতিমধ্যে বিলুপ্ত। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ১৫টি পাহাড় কেটে ফৌজদারহাট-বায়েজিদ বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছে। চট্টগ্রামের পাহাড় কাটা নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক এসএম সিরাজুল হক একটি বেসরকারি সংস্থার হয়ে ‘হিল কাটিং ইন অ্যান্ড অ্যারাউন্ড চিটাগং সিটি’ শীর্ষক গবেষণা করেন। ২০১১ সালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, বেশিরভাগ পাহাড় কাটা হয় পাহাড়তলী, খুলশী, বায়েজিদ, লালখান বাজার মতিঝরনা ষোলশহর এবং ফয়’স লেকে। ১৯৭৬ থেকে ৩২ বছরে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের ৮৮টি পাহাড় সম্পূর্ণ এবং ৯৫টি আংশিক কেটে ফেলা হয় বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। ১৯৭৬ সালে নগরের পাঁচ থানা এলাকায় মোট পাহাড় ছিল ৩২ দশমিক ৩৭ বর্গকিলোমিটার। ২০০৮ সালে তা কমে হয় ১৪ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার। এ সময়ে ১৮ দশমিক ৩৪৪ বর্গকিলোমিটার পাহাড় কাটা হয়। এটা মোট পাহাড়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ। নগরের বায়েজিদ, খুলশী, পাঁচলাইশ, কোতোয়ালি ও পাহাড়তলী থানা এলাকায় এসব পাহাড় কাটা হয়। সবচেয়ে বেশি ৭৪ শতাংশ কাটা পড়ে পাঁচলাইশে। সিডিএ পাহাড় কেটে ফৌজদারহাট-বায়েজিদ বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছে। এই সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় ১৫টি পাহাড় কাটার অনুমতি নেয় তারা। ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করতে শর্ত লঙ্ঘন করায় পরিবেশ অধিদপ্তর সিডিএকে ১০ কোটির বেশি টাকা জরিমানা করে। সিডিএ এই সড়ক নির্মাণের পর বায়েজিদ থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বাইপাস সড়কের আশপাশে পাহাড় কাটার উৎসব শুরু হয়ে যায়, যা বর্তমানে চলমান। জানা যায়, শহরের কাছে জঙ্গল সলিমপুর ও আলিনগর এলাকা ছিল একসময় পাহাড়ঘেরা নয়নাভিরাম গহীন সবুজে আচ্ছাদিত একটি অঞ্চল। সেখানে সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড় ছিল ৩ হাজার ১০০ একর। কিন্তু গত ২ যুগের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জনের চিহ্নিত ভূমিদস্যু বাহিনী জঙ্গল সলিমপুর এবং আলিনগর এলাকার পাহাড় কেটে আলাদা এক সাম্রাজ্য তৈরি করেছে। গড়ে তুলেছে দেশের ভেতরে আরেক দেশ। তাদের সহযোগী হিসেবে আছে আরও অন্তত ৩০০ জন দখলদার বাহিনী। এই ভূমিদস্যুরা ২০০০ সাল থেকে যখন যে দল ক্ষমতায় ছিল, তখন সে দলের ব্যানার টাঙিয়ে নিজেদের সাম্রাজ্য সুদৃঢ় করেছে। তারা প্রতিনিয়ত সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড় কেটে প্লট বানিয়ে হাজার হাজার ছিন্নমূলবাসীর কাছে ভাড়া কিংবা দখল বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সে সাথে পাহাড়ের ভেতর ভূমিদস্যুরা গড়ে তুলেছিল অস্ত্র, সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালানের ভয়ংকর কয়েকটি আস্তানা। এদের মধ্যে আবার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে প্রতিনিয়ত চলতো সংঘর্ষ, বন্দুকযুদ্ধ, হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা। বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলিউর রহমান বলেন, ইংরেজ শাসনের পর পাকিস্তানের ২৪ বছরে চট্টগ্রামে পাহাড়ের সংখ্যা কমেছে। স্বাধীনতার পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৮৮টি পাহাড় পুরোটাই বিলুপ্ত হয়েছে। একই সময়ে আংশিক কাটা হয়েছে ৯৫টি। এরপরের ১২ বছরে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পাহাড় নিধন।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×