তেল আবিব, ২৮ জানুয়ারি – ইসরায়েলি এক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট সম্প্রতি দেশটির মূলধারার গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি মিথ্যা প্রতিবেদনের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ইরানে সরকারবিরোধী চলমান বিক্ষোভে তিনি নিহত হয়েছেন। অথচ তিনি তখন নিজের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। টিভিতে নিজের মৃত্যুর সংবাদ দেখে তিনি যারপরনাই বিস্মিত ও হতবাক হয়ে যান।
নোইয়া সিয়োন নামের ওই তরুণী মূলত ইসরায়েলি শিল্পীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনার কাজ করেন। তিনি জানান, ইসরায়েলের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর সংবাদে ইরান বিক্ষোভে নিহতদের তালিকায় নিজের ছবি দেখতে পান তিনি। জীবিত অবস্থায় নিজের মৃত্যুর খবর প্রচার হতে দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান।
টোকিওর মতবিনিময় সভায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রোডম্যাপ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
চ্যানেলটির ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জেরে সৃষ্ট বিক্ষোভে চারজন ইহুদি বংশোদ্ভূত ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে সঠিক তথ্য যাচাই করা কঠিন এবং নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এই সংবাদ প্রচারের পরপরই একাধিক ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে দেন। এমনকি কেউ কেউ দাবি করেন যে, ইরানে নিহত ইহুদিদের সংখ্যা চার থেকে বেড়ে পাঁচে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪ কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই এই স্রোতে গা ভাসায়। তারা বিস্তারিত তথ্যে জানায়, তেহরানের রাস্তায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এক বাবা, তার ২৯ বছর বয়সী স্ত্রী, ২৫ বছর বয়সী এক আত্মীয় এবং ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। চ্যানেলটি কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র উল্লেখ না করেই আরও দাবি করে যে, দেশজুড়ে প্রায় ৩৬ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যা তাদের ভাষ্যমতে যেকোনো মানদণ্ডে অত্যধিক।
এসব ভিত্তিহীন দাবির প্রেক্ষিতে নোইয়া সিয়োন মার্কিন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন এবং সরাসরি এই দাবিগুলো নাকচ করে দেন। ভিডিওতে তাকে স্পষ্টতই বিস্মিত দেখাচ্ছিল, বিশেষ করে টিভিতে নিজের ছবি ও মৃত্যুর খবর দেখার পর তার প্রতিক্রিয়া ছিল দেখার মতো। তিনি ভিডিওতে বলেন, ‘আমি আমার বাড়িতেই আছি এবং আধা ঘণ্টার মধ্যে আমাকে একটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে যেতে হবে।’
এনএন/ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন