টেকনাফে মানব পাচারকারীদের পাহাড়ি আস্তানায়
র্যাব-বিজিবি’র যৌথ অভিযানে ৮৪ জন মালয়েশিয়াগামী ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় মানব পাচারকারীর চক্রের সদস্যরা গুলি চালায়। এ ঘটনায় তিন পাচারকারী চক্রের সদস্যকে আটক করা হয়।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ-২ বিজিবির ব্যাটালিয়নের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এসময় উপাস্থিত ছিলেন টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান এবং কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান।
আটককৃত মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা হলেন, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড উত্তর কচ্ছপিয়ার সালামত উল্লাহর ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ (২১),সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড রাজারছড়ার আবুল হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম(২০) ও একই এলাকার মোঃ ফিরুজের ছেলে মোঃ ইব্রাহিম (২০) এবং পলাতক আসামীর হলেন,বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড নোয়াখালী পাড়ার মৃত মীর কাসেমের ছেলে রেজাউল করিম (৩৭) ও মমতাজ সওদাগরের ছেলে আয়াতুল তনজিদ (৩০)।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে, ১টি বিদেশী পিস্তল,১টি বিদেশী পিস্তলের গুলি,১টি একনালা বন্দুক,১টি একনালা বন্দুকের গুলি,১টি ওয়ানগান শুটার,১টি ওয়ানগান শুটার এর গুলি,২টি দেশি রামদা ও ১টি চাকু।
ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের ‘বার আউলিয়া’
র্যাব ১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, টেকনাফের বাহারছড়া কচ্ছপিয়ার গহীন পাহাড়ে একটি পাচারকারী চক্র মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীকে আটক রাখার খবরে গতকাল রাতে
র্যার-বিজিবি- সদস্যরা প্রথমে বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে একজন পাচারকারীকে আটকসহ চার ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। তাদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়ে আমরা সমন্বিতভাবে বৃহৎ যৌথ অভিযান পরিচালনা করি। এতে আলাদাভাবে পাচারকারীদের তিনটি পাহাড়ি আস্তানা থেকে ৮৪ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে পাচারের জন্য জড়ো করা হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, র্যাব ও বিজিবির ১২ ঘণ্টার অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান ও একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও, তাদের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি দেশীয় রামদা ও একটি চাকু, ৩টি অস্ত্রের চেম্বার থেকে ৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি সময়ে টেকনাফে পাহাড়ি মানব পাচারের বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় হয়েছে। ফলে আমরা টহল-নজরদারীর মাধ্যমে পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করছি। এরই অংশ হিসেবে আমরা কয়েকটি পাহাড়ে মানবপাচার চক্রের আস্তানায় হানা দিয়ে সমুদ্রপথে মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ৮৪ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তাদের মধ্যে যেমন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত হোসেন, সাইফুল ও নিজাম নামের তিন ব্যক্তি এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূলহোতা। তাদের অধীনে রয়েছে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত দালালদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ক্যাম্পের চক্রও জড়িত রয়েছে। তাদের আমরা ধরতে কাজ করছি।




মন্তব্য করুন