কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে পাঁচ বাংলাদেশি জেলেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতের এ ঘটনায় উপকূলীয় জনপদে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
আটক জেলেরা হলেন—শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার মৃত সৈয়দ আলমের ছেলে শাহ আলম (২০), মৃত নজু মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন, মৃত মকবুল আহমেদের ছেলে মো. আব্বাস (৪০), আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল সাহেদ (১৮) এবং মৃত মো. হোসেনের ছেলে মো. ইউনুস (৪০)।
ট্রলার মালিক শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপের অদূরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার পর তার মালিকানাধীন ট্রলারটি পাঁচ জেলেসহ ঘাটে ফিরছিল। রাত হয়ে গেলে শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় তারা ট্রলারটি নোঙর করে বিশ্রাম নেন। এ সময় হঠাৎ স্পিডবোটে করে এসে আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে ট্রলারসহ মিয়ানমারের জলসীমার দিকে নিয়ে যায়।
স্থানীয় জেলেরা জানান, সীমান্তবর্তী নাফ নদী ও মোহনা এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে প্রায়ই তারা নানা ঝুঁকির মুখে পড়েন। কখনো গুলি বর্ষণ, কখনো আটক বা অপহরণের ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী রাখাইন অঞ্চলে সংঘাত বাড়ার কারণে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে তাদের দাবি।
এ ঘটনায় জেলেদের পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্বজনরা জানান, অধিকাংশ জেলেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের দ্রুত নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড চট্টগ্রাম জোনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আকিব বলেন, পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে। জেলেদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী জলসীমায় মাছ ধরার ক্ষেত্রে জেলেদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।