হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

পালংখালীতে ২০ হাজার ইয়াবা ছিনতাই নিয়ে দুই গ্রুপের গোলাগুলি: ২৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন
📌 সংক্ষেপ: উখিয়া উপজেলার পালংখালী সীমান্তে ২০ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে দুই সশস্ত্র মাদক কারবারি গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ​গত ১৩ সেপ্টেম্বর (রোববার) রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১…

উখিয়া উপজেলার পালংখালী সীমান্তে ২০ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে দুই সশস্ত্র মাদক কারবারি গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ​গত ১৩ সেপ্টেম্বর (রোববার) রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পালংখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ফারিরবিল মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

টানা ২০-২৫ মিনিট ধরে অন্তত ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড ভারী অস্ত্রের গোলাগুলির শব্দে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ​স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, রাত ১১টার দিকে তিনি মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে পালংখালী স্টেশন থেকে রওনা দেন।

পথিমধ্যে পালংখালী উচ্চবিদ্যালয়ের গেট পার হওয়ার সাথে সাথে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পরে মোটরসাইকেল রেখে ৩০ মিনিটের মতো নিরাপদে অবস্থান করেন তিনি।

এরপর গোলাগুলির শব্দ কমে গেলে বাড়িতে চলে যান। ​ফরিদ নামে ফারিরবিলের এক বাসিন্দা জানান, রাত ১১টার দিকে ফারিরবিল কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় দুই পক্ষে অন্তত ৮০ জনের মতো লোক মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে গোলাগুলি করে।

আরও পড়ুন

চকরিয়ায় বৃত্তি পরীক্ষার নামে রমরমা বাণিজ্য, প্রতারনার শিকার শিক্ষার্থীরা, ১৪৫ বিদ্যালয়ে জরুরি নোটিশ

​এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, ঘটনার মূল সূত্রপাত ইয়াবার চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে। ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে পালংখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নলবনিয়া এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি ‘ডাকাত রুবেল’-এর সহযোগীরা সীমান্ত থেকে মাদকের চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসার সময় পালংখালী ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা খাইরুল বশর ও তাঁর সিন্ডিকেটের সদস্যরা সেখান থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই করে।

খাইরুল বশর আঞ্জুমান পাড়ার আবুল কাসেমের ছেলে। ​ইয়াবা ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে রুবেল তার বাহিনীর ২৫-৩০ জন সদস্য নিয়ে খাইরুল বশরকে খুঁজতে বের হয়।

পরে রুবেল খবর পায় খাইরুল বশর পালংখালী স্টেশন হয়ে বটতলীর দিকে যাচ্ছে। তখন ফারিরবিল মাদ্রাসার সামনের সড়কে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকে রুবেল গ্রুপ।

অন্যদিকে খাইরুল বশরের লোকজনও বটতলী থেকে এসে উভয় পক্ষ গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। ​সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেয় পালংখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে রুবেল ওরফে ডাকাত রুবেল।

রুবেল ও তার ভাই ইরান মাঝি উভয়েই একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামি। গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে রুবেলের আপন ভাই ইরান মাঝি ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ বিজিবির হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জেলে আছে।

​অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা খাইরুল বশরের ওই গ্রুপ থেকে গোলাগুলি করতে আসেন আঞ্জুমান পাড়ার আরেক শীর্ষ ইয়াবা কারবারি ছৈয়দুল বশর ওরফে ছিছি বশর। ছৈয়দুল বশর পালংখালীর আঞ্জুমান পাড়া এলাকার আব্দুল ছবুরের ছেলে।

​আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, ছিছি বশরের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। এর আগে ভারী আগ্নেয়াস্ত্রসহ গোলাগুলির ঘটনায় র‍্যাব তাকে আটক করলেও তার ব্যবহৃত মূল আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রোববারের এই মুখোমুখি সংঘাতের সময়ও ছিছি বশরকে সেই পুরোনো ভারী অস্ত্রটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ​উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, রাতে গোলাগুলির খবরের সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

​রুবেল গ্রুপের সদস্যরা গোলাগুলি করেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রুবেলের বাড়িতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

​এদিকে পালংখালীতে মাদক ছিনতাই এবং পাচারকে কেন্দ্র করে প্রায় সময়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বেশ কয়েকজন মাদক কারবারির হাতে মিয়ানমার থেকে আসা কিছু ভারী অস্ত্র রয়েছে।

এসব অস্ত্র মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার করছে কারবারিরা। ফলে আতঙ্ক বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: পালংখালীতে ২০ হাজার ইয়াবা ছিনতাই নিয়ে দুই গ্রুপের গোলাগুলি: ২৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ সম্পর্কিত তথ্য কী?

উত্তর: উখিয়া উপজেলার পালংখালী সীমান্তে ২০ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে দুই সশস্ত্র মাদক কারবারি গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

পালংখালীতে ২০ হাজার ইয়াবা ছিনতাই নিয়ে দুই গ্রুপের গোলাগুলি: ২৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

পালংখালীতে ২০ হাজার ইয়াবা ছিনতাই নিয়ে দুই গ্রুপের গোলাগুলি: ২৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক :: | প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন
Print Image
উখিয়া উপজেলার পালংখালী সীমান্তে ২০ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে দুই সশস্ত্র মাদক কারবারি গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ​গত ১৩ সেপ্টেম্বর (রোববার) রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পালংখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ফারিরবিল মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। টানা ২০-২৫ মিনিট ধরে অন্তত ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড ভারী অস্ত্রের গোলাগুলির শব্দে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ​স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, রাত ১১টার দিকে তিনি মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে পালংখালী স্টেশন থেকে রওনা দেন। পথিমধ্যে পালংখালী উচ্চবিদ্যালয়ের গেট পার হওয়ার সাথে সাথে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পরে মোটরসাইকেল রেখে ৩০ মিনিটের মতো নিরাপদে অবস্থান করেন তিনি। এরপর গোলাগুলির শব্দ কমে গেলে বাড়িতে চলে যান। ​ফরিদ নামে ফারিরবিলের এক বাসিন্দা জানান, রাত ১১টার দিকে ফারিরবিল কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় দুই পক্ষে অন্তত ৮০ জনের মতো লোক মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে গোলাগুলি করে। ​এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, ঘটনার মূল সূত্রপাত ইয়াবার চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে। ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে পালংখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নলবনিয়া এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি 'ডাকাত রুবেল'-এর সহযোগীরা সীমান্ত থেকে মাদকের চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসার সময় পালংখালী ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা খাইরুল বশর ও তাঁর সিন্ডিকেটের সদস্যরা সেখান থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই করে। খাইরুল বশর আঞ্জুমান পাড়ার আবুল কাসেমের ছেলে। ​ইয়াবা ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে রুবেল তার বাহিনীর ২৫-৩০ জন সদস্য নিয়ে খাইরুল বশরকে খুঁজতে বের হয়। পরে রুবেল খবর পায় খাইরুল বশর পালংখালী স্টেশন হয়ে বটতলীর দিকে যাচ্ছে। তখন ফারিরবিল মাদ্রাসার সামনের সড়কে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকে রুবেল গ্রুপ। অন্যদিকে খাইরুল বশরের লোকজনও বটতলী থেকে এসে উভয় পক্ষ গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। ​সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেয় পালংখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে রুবেল ওরফে ডাকাত রুবেল। রুবেল ও তার ভাই ইরান মাঝি উভয়েই একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামি। গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে রুবেলের আপন ভাই ইরান মাঝি ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ বিজিবির হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জেলে আছে। ​অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা খাইরুল বশরের ওই গ্রুপ থেকে গোলাগুলি করতে আসেন আঞ্জুমান পাড়ার আরেক শীর্ষ ইয়াবা কারবারি ছৈয়দুল বশর ওরফে ছিছি বশর। ছৈয়দুল বশর পালংখালীর আঞ্জুমান পাড়া এলাকার আব্দুল ছবুরের ছেলে। ​আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, ছিছি বশরের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। এর আগে ভারী আগ্নেয়াস্ত্রসহ গোলাগুলির ঘটনায় র‍্যাব তাকে আটক করলেও তার ব্যবহৃত মূল আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রোববারের এই মুখোমুখি সংঘাতের সময়ও ছিছি বশরকে সেই পুরোনো ভারী অস্ত্রটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ​উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, রাতে গোলাগুলির খবরের সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ​রুবেল গ্রুপের সদস্যরা গোলাগুলি করেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রুবেলের বাড়িতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ​এদিকে পালংখালীতে মাদক ছিনতাই এবং পাচারকে কেন্দ্র করে প্রায় সময়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বেশ কয়েকজন মাদক কারবারির হাতে মিয়ানমার থেকে আসা কিছু ভারী অস্ত্র রয়েছে। এসব অস্ত্র মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার করছে কারবারিরা। ফলে আতঙ্ক বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×