হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

পেকুয়ায় খাল খননের নামে আগাছা পরিস্কার!

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ::

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ::

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের চেপ্টামোড়ায় খাল খননের নামে প্রকল্প চলছে বলে প্রচার থাকলেও বাস্তবে খাল খননের নামে চলছে আগাছা পরিষ্কার।

স্থানীয়রা ও জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, শুধু উপরের পলি ও আগাছা সরানো হচ্ছে, তলদেশের জমে থাকা শক্ত পলি সরানো বা গভীরতা বাড়ানো হচ্ছে না।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বাস্তবায়ন করা প্রকল্পের তদারকি করছে এনজিও সংস্থা ব্রাক। 

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকরা কেবল উপরের মাটি কাটছেন, খালের দুই পাড় আগের মতোই সংকুচিত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে ফসলি জমি প্লাবিত হয়, শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি মজুত হয় না।

আরও পড়ুন

চকরিয়ায় বন উজাড় রোধে কেবল আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, আগে দখলবাজ শ্রেনির মানুষকে সচেতন করা জরুরি

প্রায় ৫০ বছর আগে কৃষি সম্প্রসারণের জন্য কৃত্রিমভাবে খনন করা এই খাল জারুলবুনিয়া সড়কের কালভার্ট থেকে পশ্চিমে বদ্দার খালে মিলিত হয়। একসময় কৃষকরা ধান ও সবজির জন্য খালের বদ্ধ মিঠা পানির উপর নির্ভর করতেন।

মুন্সিমুরা, চেপ্টামুরা, দয়ারঘোনা ও মিয়ারঘোনার কৃষকরা জানান, প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে প্রায় তিনশো একর জমিতে ফসল উৎপাদন বাড়বে। তবে শুধুমাত্র উপরের অংশ পরিষ্কার করলে বর্ষায় পানি নামলেও শুকনো মৌসুমে সেচের সুবিধা হবে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আহমদ ছবি বলেন, খালটি আরো গভীর ও প্রশস্ত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব, খালটি সিট মেপে প্রকৃত জায়গা নির্ধারণ করে পূর্ণাঙ্গভাবে খনন করা হোক। এখন যা করা হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদি ফল দেবে না।

অপর ইউপি সদস্য আবুল কালাম জানান, চেপ্টামুরা খাল ভরাট হয়ে গেলে প্রতি বর্ষায় প্রায় দুইশো একর ধান নষ্ট হয়। খালটি পূর্ণাঙ্গ খনন হলে শীলখালীর অধিকাংশ কৃষক উপকৃত হবেন।

ইউপি সদস্য জাফর আলম জানিয়েছেন, খননের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। খালটি আরও প্রশস্ত ও গভীর করে খনন করা উচিত। কিন্তু এখন যা হচ্ছে দেখলে মনে হয় আগাছা পরিষ্কার করছে।

পুর্নাঙ্গভাবে খনন না করায় আশেপাশের কৃষকরা আগের মতোই সমস্যার মুখোমুখি হবেন।

চেপ্টামুরার বাসিন্দা রুকন উদ্দিন খনন কাজের তদারকি করছে বলে দাবি করে জানান, প্রতিদিন ৮০-৯০ জন শ্রমিক খাল পরিস্কার করছেন। প্রতি শ্রমিক ৫শ টাকার মজুরীতে ১২ দিন কাজ চলবে। তবে তিনি দাবী করেন,খালটি গভীরভাবে খনন করা জরুরি, নতুবা কৃষকরা আগের মতো সমস্যায় পড়বেন।

পেকুয়া ব্রাক অফিসের প্রধান কর্মকর্তা মমতাজ উদ্দিন জানান, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বাস্তবায়ন করা প্রকল্পে ব্রাক তদারকি করে থাকে। প্রকল্প যেভাবে দেওয়া হয়েছে সেভাবেই খালটির কাজ শেষ হবে।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

পেকুয়ায় খাল খননের নামে আগাছা পরিস্কার!

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

পেকুয়ায় খাল খননের নামে আগাছা পরিস্কার!

প্রতিবেদক: পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :: | প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন
Print Image
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের চেপ্টামোড়ায় খাল খননের নামে প্রকল্প চলছে বলে প্রচার থাকলেও বাস্তবে খাল খননের নামে চলছে আগাছা পরিষ্কার। স্থানীয়রা ও জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, শুধু উপরের পলি ও আগাছা সরানো হচ্ছে, তলদেশের জমে থাকা শক্ত পলি সরানো বা গভীরতা বাড়ানো হচ্ছে না। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বাস্তবায়ন করা প্রকল্পের তদারকি করছে এনজিও সংস্থা ব্রাক।  সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকরা কেবল উপরের মাটি কাটছেন, খালের দুই পাড় আগের মতোই সংকুচিত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে ফসলি জমি প্লাবিত হয়, শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি মজুত হয় না। প্রায় ৫০ বছর আগে কৃষি সম্প্রসারণের জন্য কৃত্রিমভাবে খনন করা এই খাল জারুলবুনিয়া সড়কের কালভার্ট থেকে পশ্চিমে বদ্দার খালে মিলিত হয়। একসময় কৃষকরা ধান ও সবজির জন্য খালের বদ্ধ মিঠা পানির উপর নির্ভর করতেন। মুন্সিমুরা, চেপ্টামুরা, দয়ারঘোনা ও মিয়ারঘোনার কৃষকরা জানান, প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে প্রায় তিনশো একর জমিতে ফসল উৎপাদন বাড়বে। তবে শুধুমাত্র উপরের অংশ পরিষ্কার করলে বর্ষায় পানি নামলেও শুকনো মৌসুমে সেচের সুবিধা হবে না। স্থানীয় ইউপি সদস্য আহমদ ছবি বলেন, খালটি আরো গভীর ও প্রশস্ত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব, খালটি সিট মেপে প্রকৃত জায়গা নির্ধারণ করে পূর্ণাঙ্গভাবে খনন করা হোক। এখন যা করা হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদি ফল দেবে না। অপর ইউপি সদস্য আবুল কালাম জানান, চেপ্টামুরা খাল ভরাট হয়ে গেলে প্রতি বর্ষায় প্রায় দুইশো একর ধান নষ্ট হয়। খালটি পূর্ণাঙ্গ খনন হলে শীলখালীর অধিকাংশ কৃষক উপকৃত হবেন। ইউপি সদস্য জাফর আলম জানিয়েছেন, খননের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। খালটি আরও প্রশস্ত ও গভীর করে খনন করা উচিত। কিন্তু এখন যা হচ্ছে দেখলে মনে হয় আগাছা পরিষ্কার করছে। পুর্নাঙ্গভাবে খনন না করায় আশেপাশের কৃষকরা আগের মতোই সমস্যার মুখোমুখি হবেন। চেপ্টামুরার বাসিন্দা রুকন উদ্দিন খনন কাজের তদারকি করছে বলে দাবি করে জানান, প্রতিদিন ৮০-৯০ জন শ্রমিক খাল পরিস্কার করছেন। প্রতি শ্রমিক ৫শ টাকার মজুরীতে ১২ দিন কাজ চলবে। তবে তিনি দাবী করেন,খালটি গভীরভাবে খনন করা জরুরি, নতুবা কৃষকরা আগের মতো সমস্যায় পড়বেন। পেকুয়া ব্রাক অফিসের প্রধান কর্মকর্তা মমতাজ উদ্দিন জানান, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বাস্তবায়ন করা প্রকল্পে ব্রাক তদারকি করে থাকে। প্রকল্প যেভাবে দেওয়া হয়েছে সেভাবেই খালটির কাজ শেষ হবে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×