হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

প্রথম যাত্রায় প্রায় ১২শ’ পর্যটক গেলো সেন্টমার্টিন

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার::

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার::

সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে মৌসুমের প্রথম যাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে তিনটি জাহাজ রওনা দেয়। চলতি মৌসুমে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে প্রথম এই যাত্রায় অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১২শ’ পর্যটক।

ভোর থেকেই এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজের যাত্রীরা ঘাটে ভিড় জমাতে থাকেন। টিকিট দেখিয়ে জাহাজে উঠার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি যাত্রীর হাতে উপহারস্বরূপ প্রদান করা হয় পরিবেশবান্ধব পানির বোতল।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক অরুপ হোসেন বলেন, “প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিন যাচ্ছি। ভ্রমণটা খুব রোমাঞ্চকর লাগছে। প্রশাসনের তৎপরতা ভালো লেগেছে, আশা করছি সুন্দর সময় কাটবে।”

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজগুলোতে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন। আগামী দুই মাস—৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত—দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগও থাকবে। যাত্রার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলক। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

আরও পড়ুন

ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের ‘বার আউলিয়া’

‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, মোট ছয়টি জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হলেও যাত্রীর অনুপাতে প্রথম দিনে তিনটি জাহাজ ছেড়ে গেছে। জোয়ার-ভাটা ও নাব্যতা বিবেচনায় প্রতিদিনের যাত্রাসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিকেলে সেন্টমার্টিন থেকে ফের জাহাজগুলো কক্সবাজারে ফিরে আসবে।

গত বছর থেকে টেকনাফ রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম কিছুটা ক্লান্তিকর হতে পারে বলে মনে করেন অনেক পর্যটক। চট্টগ্রাম থেকে আসা রোকসানা আলী বলেন, “আগে টেকনাফ থেকে দ্রুত যাওয়া যেত, এখন রুট লম্বা হওয়ায় জার্নি একটু কষ্টের। তবুও দ্বীপে পৌঁছালে সেই ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক প্রশান্তিই আলাদা।”

পর্যটকদের নিরাপত্তায় ঘাটে প্রবেশপথে তল্লাশি ও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে নিয়োজিত আছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য সমুদ্রপথে জাহাজে এবং দ্বীপে আমাদের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। যে কোনো প্রয়োজনে আমরা সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”

সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার গত অক্টোবরে ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো নিষিদ্ধ, উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান বা বারবিকিউ পার্টি নয়, কেয়াবনে প্রবেশ ও কেয়াফল সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষেধ, পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চলাচল বন্ধ এবং পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিককে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

প্রথম দিনের যাত্রা দেখতে ঘাটে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, “সরকারি নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় পর্যটক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”

গত ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন উন্মুক্ত হলেও পুরো নভেম্বর মাস রাত্রিযাপনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভ্রমণেচ্ছু পর্যটক কম ছিল এবং ওই মাসে কক্সবাজার থেকে কোনো জাহাজই সেন্টমার্টিন যায়নি। ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকেই তা জেগে উঠেছে নতুন মৌসুমের পর্যটনযাত্রা।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

কক্সবাজার
Card Image

প্রথম যাত্রায় প্রায় ১২শ’ পর্যটক গেলো সেন্টমার্টিন

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

প্রথম যাত্রায় প্রায় ১২শ’ পর্যটক গেলো সেন্টমার্টিন

প্রতিবেদক: সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার:: | প্রকাশিত: সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন
Print Image
পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে মৌসুমের প্রথম যাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে তিনটি জাহাজ রওনা দেয়। চলতি মৌসুমে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে প্রথম এই যাত্রায় অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১২শ’ পর্যটক। ভোর থেকেই এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজের যাত্রীরা ঘাটে ভিড় জমাতে থাকেন। টিকিট দেখিয়ে জাহাজে উঠার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি যাত্রীর হাতে উপহারস্বরূপ প্রদান করা হয় পরিবেশবান্ধব পানির বোতল। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক অরুপ হোসেন বলেন, “প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিন যাচ্ছি। ভ্রমণটা খুব রোমাঞ্চকর লাগছে। প্রশাসনের তৎপরতা ভালো লেগেছে, আশা করছি সুন্দর সময় কাটবে।” সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজগুলোতে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন। আগামী দুই মাস—৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত—দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগও থাকবে। যাত্রার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলক। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে। ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, মোট ছয়টি জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হলেও যাত্রীর অনুপাতে প্রথম দিনে তিনটি জাহাজ ছেড়ে গেছে। জোয়ার-ভাটা ও নাব্যতা বিবেচনায় প্রতিদিনের যাত্রাসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিকেলে সেন্টমার্টিন থেকে ফের জাহাজগুলো কক্সবাজারে ফিরে আসবে। গত বছর থেকে টেকনাফ রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম কিছুটা ক্লান্তিকর হতে পারে বলে মনে করেন অনেক পর্যটক। চট্টগ্রাম থেকে আসা রোকসানা আলী বলেন, “আগে টেকনাফ থেকে দ্রুত যাওয়া যেত, এখন রুট লম্বা হওয়ায় জার্নি একটু কষ্টের। তবুও দ্বীপে পৌঁছালে সেই ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক প্রশান্তিই আলাদা।” পর্যটকদের নিরাপত্তায় ঘাটে প্রবেশপথে তল্লাশি ও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে নিয়োজিত আছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য সমুদ্রপথে জাহাজে এবং দ্বীপে আমাদের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। যে কোনো প্রয়োজনে আমরা সহায়তা দিতে প্রস্তুত।” সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার গত অক্টোবরে ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো নিষিদ্ধ, উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান বা বারবিকিউ পার্টি নয়, কেয়াবনে প্রবেশ ও কেয়াফল সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষেধ, পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চলাচল বন্ধ এবং পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিককে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। প্রথম দিনের যাত্রা দেখতে ঘাটে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, “সরকারি নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় পর্যটক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।” গত ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন উন্মুক্ত হলেও পুরো নভেম্বর মাস রাত্রিযাপনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভ্রমণেচ্ছু পর্যটক কম ছিল এবং ওই মাসে কক্সবাজার থেকে কোনো জাহাজই সেন্টমার্টিন যায়নি। ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকেই তা জেগে উঠেছে নতুন মৌসুমের পর্যটনযাত্রা।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×