হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

বাঁকখালী নদী উচ্ছেদ অভিযানে বাধার ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর, ব্যবসায়ীসহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক::

নিজস্ব প্রতিবেদক::

বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর পেশকারপাড়ায় অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে বাধা ও হামলার ঘটনায় পৌরসভার সাবেক কাউন্সিল, বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি), ব্যবসায়ীসহ অন্তত ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এ মামলা করেন কক্সবাজার নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরকারি কর্মচারীদের উচ্ছেদ অভিযানে বাধা, ক্ষতিসাধন ও হাইকোর্টের আদেশ অমান্যের অভিযোগ আনা হয়।

উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেওয়ার মামলায় আসামিদের মধ্যে আছেন শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পেশকারপাড়ার বাসিন্দা খালেক (৫৮) , শহীদুল ইসলাম ( ৪৫), সিআইপি আতিকুল ইসলাম (৫৯), সাবেক কাউন্সিলর হুমাইরা বেগম (৪৫), ব্যবসায়ী মো. জাকির (৪৭) ও সিরাজুল মোস্তফা আহমদ (৩২)।

মামলার এজাহারে বলা হয়, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় নদীর উত্তর পেশকারপাড়া জামে মসজিদের পাশে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী। এ সময় আসামি খালেক ও শহীদুল ইসলাম জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৩৫০-৪০০ জন দুষ্কৃতকারী নারী-পুরুষকে জড়ো করেন। তাঁরা লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালাতে মাইকে ঘোষণা দেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে স্থানীয় নারী-পুরুষেরা উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একটি মই ভেঙে ফেলেন তাঁরা। এ সময় দখলদার লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশে সরকারি কর্মচারীদের আক্রমণ করেন।

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস খান প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তবে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন

ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের ‘বার আউলিয়া’

এর আগের দিন মঙ্গলবারও নদীর উচ্ছেদ অভিযানে বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এসআই মো. জাকির হোছাইন বাদী হয়ে মামলা করেন।

এদিকে বাঁকখালী তীরের উচ্ছেদ অভিযানে আজও বিক্ষোভ করেছেন নদীতীরের বাড়িঘরে বসবাস করা বাসিন্দারা। সকাল থেকে নদীর দুটি অংশের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ করেন। তবে এতে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়নি।

আজ সকাল ১০টা থেকে বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাটের বদরমোকাম এলাকায় চতুর্থ দিনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী। এর আগে বিক্ষুব্ধ লোকজন কস্তুরাঘাট সড়কের বিভিন্ন অংশে গাছের গুঁড়ি ও বাঁশ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন এবং উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তবে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ৪০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন শাখা) কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, বাধার মুখে গতকাল উত্তর পেশকারপাড়ার উচ্ছেদ অভিযান ব্যাহত হলেও আজ সকাল থেকে নদীর বদরমোকাম এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলছে। শহরের নুনিয়াছটা থেকে খুরুশকুল সেতু পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারে নদীর জমি দখল ও ভরাট করে যেসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, তার সবটুকু উচ্ছেদ করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। প্রথম দুই দিনের অভিযানে ৩৪৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে অন্তত ৫৬ একর ভূমি দখলমুক্ত করেছে যৌথ বাহিনী।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

কক্সবাজার
Card Image

বাঁকখালী নদী উচ্ছেদ অভিযানে বাধার ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর, ব্যবসায়ীসহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

বাঁকখালী নদী উচ্ছেদ অভিযানে বাধার ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর, ব্যবসায়ীসহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক:: | প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
Print Image
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর পেশকারপাড়ায় অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে বাধা ও হামলার ঘটনায় পৌরসভার সাবেক কাউন্সিল, বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি), ব্যবসায়ীসহ অন্তত ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এ মামলা করেন কক্সবাজার নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরকারি কর্মচারীদের উচ্ছেদ অভিযানে বাধা, ক্ষতিসাধন ও হাইকোর্টের আদেশ অমান্যের অভিযোগ আনা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেওয়ার মামলায় আসামিদের মধ্যে আছেন শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পেশকারপাড়ার বাসিন্দা খালেক (৫৮) , শহীদুল ইসলাম ( ৪৫), সিআইপি আতিকুল ইসলাম (৫৯), সাবেক কাউন্সিলর হুমাইরা বেগম (৪৫), ব্যবসায়ী মো. জাকির (৪৭) ও সিরাজুল মোস্তফা আহমদ (৩২)। মামলার এজাহারে বলা হয়, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় নদীর উত্তর পেশকারপাড়া জামে মসজিদের পাশে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী। এ সময় আসামি খালেক ও শহীদুল ইসলাম জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৩৫০-৪০০ জন দুষ্কৃতকারী নারী-পুরুষকে জড়ো করেন। তাঁরা লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালাতে মাইকে ঘোষণা দেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে স্থানীয় নারী-পুরুষেরা উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একটি মই ভেঙে ফেলেন তাঁরা। এ সময় দখলদার লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশে সরকারি কর্মচারীদের আক্রমণ করেন। মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস খান প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তবে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এর আগের দিন মঙ্গলবারও নদীর উচ্ছেদ অভিযানে বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এসআই মো. জাকির হোছাইন বাদী হয়ে মামলা করেন। এদিকে বাঁকখালী তীরের উচ্ছেদ অভিযানে আজও বিক্ষোভ করেছেন নদীতীরের বাড়িঘরে বসবাস করা বাসিন্দারা। সকাল থেকে নদীর দুটি অংশের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ করেন। তবে এতে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়নি। আজ সকাল ১০টা থেকে বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাটের বদরমোকাম এলাকায় চতুর্থ দিনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী। এর আগে বিক্ষুব্ধ লোকজন কস্তুরাঘাট সড়কের বিভিন্ন অংশে গাছের গুঁড়ি ও বাঁশ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন এবং উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তবে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ৪০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন শাখা) কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, বাধার মুখে গতকাল উত্তর পেশকারপাড়ার উচ্ছেদ অভিযান ব্যাহত হলেও আজ সকাল থেকে নদীর বদরমোকাম এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলছে। শহরের নুনিয়াছটা থেকে খুরুশকুল সেতু পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারে নদীর জমি দখল ও ভরাট করে যেসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, তার সবটুকু উচ্ছেদ করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। প্রথম দুই দিনের অভিযানে ৩৪৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে অন্তত ৫৬ একর ভূমি দখলমুক্ত করেছে যৌথ বাহিনী।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×