তেল আবিব, ১৪ মে – ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই কি তবে গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়েছিলেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু? গতকাল বুধবার (১৩ মে) খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এমন দাবি করার পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। তবে এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে কড়া জবাব দিয়েছে আমিরাত।
নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে জানানো হয়, যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে তিনি গোপনে আরব আমিরাত সফর করেছেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নেতানিয়াহুর দাবি, এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘ঐতিহাসিক ব্রেকথ্রু’ বা বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
টোকিওর মতবিনিময় সভায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রোডম্যাপ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই দাবিকে স্রেফ ‘কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক কড়া বিবৃতিতে তারা বলেছে, “যে সফরের কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্বই নেই।” আমিরাত স্পষ্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলের সাথে তাদের সম্পর্ক কোনো গোপন বা অনানুষ্ঠানিক পথে চলে না; বরং ২০২০ সালের ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম চুক্তি’র আলোকেই সবকিছু প্রকাশ্যে পরিচালিত হয়।
যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমিরাতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমিরাতের ঘনিষ্ঠতা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নেতানিয়াহুর এই ‘গোপন সফর’-এর দাবি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আলোচনার পাশাপাশি সামরিক সহযোগিতার খবরও এখন প্রকাশ্যে। জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমিরাতের আকাশ সুরক্ষায় ইসরায়েল তাদের বিখ্যাত ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে। এমনকি এগুলো পরিচালনার জন্য বর্তমানে ইসরায়েলি সেনারাও আমিরাতে অবস্থান করছেন।
এনএন/ ১৪ মে ২০২৬




মন্তব্য করুন