হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান নিশ্চিত এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা এবং সম্মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমে স্থানীয়করণ জোরদার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীরা।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৬ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক আগমনের পর থেকে বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় জনগণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মানবিক তহবিল কমে যাওয়ায় স্বল্পব্যয়ী ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) অনুযায়ী কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর জন্য ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পাওয়া গেছে মাত্র ৩৬৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার, যা মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় অংশীজনরা অভিযোগ করেন, জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান-২০২৬ বাস্তবায়নে স্থানীয় এনজিওগুলোকে কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে, যা প্রত্যাশিত ছিল না।

“সুন্দর আগামীর নির্মাণে শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সম্মান” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) ও কোস্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সেমিনারে কক্সবাজারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে রোহিঙ্গা সংকটের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন

উখিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৭

বক্তারা বলেন, বর্তমান মানবিক সাড়াদান প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ ঘোষিত ‘হিউম্যানিটারিয়ান রিসেট’-এর মূল নীতিগুলোর যথাযথ প্রতিফলন নেই। এই নীতিতে স্থানীয় নেতৃত্বাধীন এবং বৈশ্বিকভাবে সমর্থিত মানবিক কার্যক্রম, শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংগঠনগুলোর জন্য পুল ফান্ডের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) প্রদত্ত ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিলের ৯২ শতাংশ জাতিসংঘের সংস্থাগুলো এবং ৮ শতাংশ আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো পেয়েছে। স্থানীয় সংগঠনগুলো সরাসরি কোনো অর্থায়ন পায়নি।

আলোচনায় বক্তারা নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি নতুন ‘জয়েন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্ল্যান (জেআরপি ২.০)’ প্রণয়নেরও আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর রোডম্যাপ এখন সময়ের দাবি।

সেমিনারে কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. ইকবাল উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিসিএনএফের সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম।
মূল প্রবন্ধে মো. ইকবাল উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার থেকে উদ্ভূত এবং স্থানীয় জনগণের নেতৃত্বে পরিচালিত সংগঠনগুলোকে রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তিনি স্থানীয় এনজিওর সংজ্ঞা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা প্রশাসন ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারে অভিবাসনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তিনি ভূগর্ভস্থ পানির ক্রমবর্ধমান ক্ষয় মোকাবিলায় গভীর নলকূপের বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের প্রধান ডেভিড বাগডেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফল করতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
ইউএনএইচসিআরের স্ট্র্যাটেজিক ওভারসাইট সার্ভিসের প্রধান মার্সেল গ্রোগান সমন্বিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বিকল্প পানির উৎস হিসেবে পরিশোধিত নাফ নদীর পানি সরবরাহের প্রস্তাব দেন।
টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা আক্তার ক্যাম্পে মাদক ও অস্ত্রের বিস্তার রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ উখিয়া ও টেকনাফে পরিবেশ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান। এপিপি অ্যাডভোকেট সাকি-এ-কাওছার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিবিএন নিউজের বার্তা প্রধান ইমাম খায়ের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানান।
উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার মানবিক প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় এনজিওগুলোর বৃহত্তর সম্পৃক্ততার পক্ষে মত দেন।

এছাড়া এনসিপির উখিয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী এবং কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমানসহ অন্যান্য বক্তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন পালস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কলিম, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিন, প্রথম আলোর কক্সবাজার অফিস প্রধান আবদুস শুকুর রানা, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী রোমান, অগ্রযাত্রা বাংলাদেশের নীলিমা আক্তার চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল ইসলাম এবং হেল্প কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম।

🔗 আরও পড়ুন:

anwar

anwar

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

উখিয়া
Card Image

রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান নিশ্চিত এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান নিশ্চিত এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক : | প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
Print Image
রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা এবং সম্মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমে স্থানীয়করণ জোরদার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীরা। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৬ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক আগমনের পর থেকে বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় জনগণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মানবিক তহবিল কমে যাওয়ায় স্বল্পব্যয়ী ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) অনুযায়ী কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর জন্য ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পাওয়া গেছে মাত্র ৩৬৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার, যা মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় অংশীজনরা অভিযোগ করেন, জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান-২০২৬ বাস্তবায়নে স্থানীয় এনজিওগুলোকে কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে, যা প্রত্যাশিত ছিল না। “সুন্দর আগামীর নির্মাণে শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সম্মান” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) ও কোস্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সেমিনারে কক্সবাজারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে রোহিঙ্গা সংকটের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমান মানবিক সাড়াদান প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ ঘোষিত ‘হিউম্যানিটারিয়ান রিসেট’-এর মূল নীতিগুলোর যথাযথ প্রতিফলন নেই। এই নীতিতে স্থানীয় নেতৃত্বাধীন এবং বৈশ্বিকভাবে সমর্থিত মানবিক কার্যক্রম, শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংগঠনগুলোর জন্য পুল ফান্ডের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) প্রদত্ত ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিলের ৯২ শতাংশ জাতিসংঘের সংস্থাগুলো এবং ৮ শতাংশ আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো পেয়েছে। স্থানীয় সংগঠনগুলো সরাসরি কোনো অর্থায়ন পায়নি। আলোচনায় বক্তারা নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি নতুন ‘জয়েন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্ল্যান (জেআরপি ২.০)’ প্রণয়নেরও আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর রোডম্যাপ এখন সময়ের দাবি। সেমিনারে কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. ইকবাল উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিসিএনএফের সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম। মূল প্রবন্ধে মো. ইকবাল উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার থেকে উদ্ভূত এবং স্থানীয় জনগণের নেতৃত্বে পরিচালিত সংগঠনগুলোকে রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তিনি স্থানীয় এনজিওর সংজ্ঞা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা প্রশাসন ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারে অভিবাসনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তিনি ভূগর্ভস্থ পানির ক্রমবর্ধমান ক্ষয় মোকাবিলায় গভীর নলকূপের বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের প্রধান ডেভিড বাগডেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফল করতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। ইউএনএইচসিআরের স্ট্র্যাটেজিক ওভারসাইট সার্ভিসের প্রধান মার্সেল গ্রোগান সমন্বিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বিকল্প পানির উৎস হিসেবে পরিশোধিত নাফ নদীর পানি সরবরাহের প্রস্তাব দেন। টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা আক্তার ক্যাম্পে মাদক ও অস্ত্রের বিস্তার রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ উখিয়া ও টেকনাফে পরিবেশ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান। এপিপি অ্যাডভোকেট সাকি-এ-কাওছার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সিবিএন নিউজের বার্তা প্রধান ইমাম খায়ের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানান। উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার মানবিক প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় এনজিওগুলোর বৃহত্তর সম্পৃক্ততার পক্ষে মত দেন। এছাড়া এনসিপির উখিয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী এবং কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমানসহ অন্যান্য বক্তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন পালস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কলিম, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিন, প্রথম আলোর কক্সবাজার অফিস প্রধান আবদুস শুকুর রানা, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী রোমান, অগ্রযাত্রা বাংলাদেশের নীলিমা আক্তার চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল ইসলাম এবং হেল্প কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×