কুমিল্লা, ১৪ সেপ্টেম্বর – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনের ডেডলাইন বা সময়সূচি নিয়ে এনসিপির কোনো সমস্যা নেই। তবে নির্বাচনের আগে অবশ্যই নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের তুলাগাও গ্রামে উঠানে রাজনীতি শীর্ষক একটি উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসানত। সেখানে নিজ বক্তব্যে তিনি বলেন, “নির্বাচনের ডেডলাইন নিয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই। প্রয়োজনে আগামীকাল নির্বাচন দিন। কিন্তু আমাদের একটি লিখিত নতুন সংবিধান লাগবে—যে সংবিধানে মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে।”
কক্সবাজারে মানি লন্ডারিং মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে হাসনাত বলেন, “আপনি ঘোষণা দিন যে খেলার নিয়ম চেঞ্জ হয়েছে। এ খেলার নিয়মের একটি আইনগত ভিত্তি দিন। এরপর আপনি নির্বাচন দিন আমরা কেউ নির্বাচিত হই বা না হই দুঃখ নেই। কিন্তু জনগণ যাকে ভোট দিবে সে নির্বাচিত হতে পারবে, এতে আমাদের কোন আপত্তি থাকবে না।”
“কিন্তু আমাদেরকে নির্বাচনের আগে ভাঙা ঘরের পরিবর্তন করতে হবে। আপনি আমাদের ভাঙা দরজা পরিবর্তন করবেন না জানালা পরিবর্তন করবেন না শুধুমাত্র দারোয়ান পরিবর্তনের জন্যই কি আমরা নির্বাচন করব? আমরা ৫০ বছর দেখেছি, চুরি থামানো যায়নি, টেন্ডারবাজি থামানো যায় নাই, ভোট ডাকাতি থামানো যায়নি। আমরা দারোয়ান পরিবর্তন করব একই সঙ্গে দরজাও ঠিকঠাক মত লাগবো। এজন্য মুখের কথা বিশ্বাস করিনা আমাদের একটি নতুন সংবিধান চাই, যা হতে হবে লিখিত। কিন্তু আমরা এখন শুনতেছি, যারা অন্য কাউকে ভোট দিবে তারা নাকি জিহবা কেটে ফেলবে এগুলো কি ভাষা ছিল?”
ড. মোহাম্মদ ইউনুসকে উদ্দেশ্যে করে হাসনাত বলেন, “শোনা যাচ্ছে, আপনার অনেক উপদেষ্টা নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন, এই কথা আমরা বিশ্বাস করতে চাই না, আপনারা আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে জাতিকে প্রতারিত করছেন।”
ওই অনুষ্ঠানে হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রধান উপদেষ্টার উদ্দ্যেশে বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকে বলতে শুনেছি, ব্যালট পেপারে যদি প্রতীক না থাকে তাহলে নিজেরাই নাকি ব্যালট ছাপাবে। আমরা দেখেছি, একটি দলের প্রধান ভিপি নুরকে কিভাবে অমানবিকভাবে পিটিয়েছে কিন্তু এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ”
“আমরা দেখেছি ভোটের আগে নেতারা টাকা দিয়ে আপনার আমার মুখ বন্ধ করে রাখে। এটা আর আমরা হতে দেব না, সামনে যে নির্বাচন হবে ওই নির্বাচনে আমাদের কিছু শর্ত আছে ওই শর্তগুলোর লিখিত ভিত্তি দিতে হবে। এটাই রাষ্ট্র সংস্কার। এই দেশ হাজার হাজার মানুষের রক্তে ভেজা, এখানে আমরা মুখের কথা বিশ্বাস করি না, এগুলোর আইনগত ভিত্তি দিয়েই নির্বাচন দিতে হবে যার পক্ষই যাক। যারা এই নিয়ম ভাঙবে পরবর্তী জেনারেশন যেন তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে ধরতে পারে। রাষ্ট্রের মধ্যে যত অনিয়ম দুর্নীতি হয় এগুলো সাফারার হয় সাধারণ মানুষ, কোন মন্ত্রী-এমপি এগুলো সাফারার হয় না। এমপি সবসময় এমপি হয়, মন্ত্রী সব সময় মন্ত্রী হয়, তাদের ছেলে মেয়েরাও এমপি-মন্ত্রী হয়। তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় কিন্তু এই সাধারণ খেটে খাওয়ার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না।”
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “২০১৩-১৪ সালে ভোটের আগের দিন রাতে ঘরের দরজায় টোকা দিত কিছু নেতা, ঘরের ভিতর থেকে আওয়াজ আসত ঘরে আমরা পাঁচজন, এ রকমও হয়েছে। তারা রাতের বেলায় ৫০০-১০০০ টাকা দিয়ে আপনার আমার ভাগ্য কিনত, আর পাঁচ বছর রাস্তার ঘাটের কাজে দুর্নীতি-অনিয়ম করত। আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে আমরা আর তাদের টাকার কাছে বিক্রি হবো না, যারা পাঁচ বছর আমাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে। তারা যে টাকা দিয়ে ভোট কিনে ওই টাকা কোথায় থেকে আসে একবারও কি আপনার মনে প্রশ্ন আসে না ! তারা এ টাকা কোথাও না কোথাও থেকে দুর্নীতি করে আনছে, এই টাকা নির্বাচনের পর জনগণের কাছ থেকেই আবার উসুল করবে।”
দেবিদ্বার উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহবায়ক জামাল মোহাম্মদ কবীরের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব আলম, এহতেশাম হক, দেবিদ্বার উপজেলা সার্চ কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।




মন্তব্য করুন