সরকারি ইমারত বিভাগের অনুমোদিত মাস্টারপ্ল্যান ছাড়াই স্থানীয় রাজমিস্ত্রী দিয়ে ১৯৮৫ সালে কক্সবাজারে চকরিয়া উপজেলার বাণিজ্যিক জনপদ চিরিঙ্গা হাইওয়ে এলাকায় সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছে পাঁচতলা বিশিষ্ট চকরিয়া নিউ মার্কেট। সেই থেকে মার্কেটের প্রতিটি তলায় বিভিন্ন ধরনের পন্য সামগ্রির দোকান চালু রয়েছে। এটি চকরিয়া পৌরশহরের প্রাচীন ও প্রথম বাণিজ্যিক মার্কেট।
চকরিয়া নিউ মার্কেটটি তৈরির প্রায় ৪০ বছর পর
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর বারোটার দিকে হঠাৎ করে মার্কেটের দক্ষিণাংশ তথা ওয়াপদা রোডের মাথায় ছাদের ড্রপওয়াল (সানসেট )ভেঙে পড়েছে। এসময় মার্কেটের নীচে ফুটপাতে বসে শুকনো মাছ বিক্রি করার ছাদের ভাঙা অংশ ছাপা পড়ে মাছ ব্যবসায়ী যুবক মোহাম্মদ জিহাদ (১৮) গুরুতর আহত হয়েছে।
আহত জিহাদ বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা। তার পা ভেঙ্গে গেছে। তাকে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মার্কেটের ভেঙে পড়া ছাদের পলেস্তারে রডের সাথে বাঁশ দেখে স্থানীয় লোকজন ধারণা করছেন, চকরিয়া নিউ মার্কেট ভবন নির্মাণের সময় কোনধরনের মাস্টারপ্ল্যান করা হয়নি। মানা হয়নি ইমারত আইন। সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার প্রকৌশলীদের সুপারভিশন ছাড়াই স্থানীয় রাজমিস্ত্রী দিয়ে মার্কেটটি তৈরি করা হয়েছে। আবার নির্মাণকাজে মার্কেটের ছাদ, লোড বিম, গ্রেড বিম ড্রপওয়াল (সানসেট)সহ বিভিন্ন পয়েন্টে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া সেসময় নিন্মমানের উপকরণ দিয়ে মার্কেটটি কোনমতে ঢালাই দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন।
চকরিয়ায় বন উজাড় রোধে কেবল আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, আগে দখলবাজ শ্রেনির মানুষকে সচেতন করা জরুরি
পৌরশহরের ব্যবসায়ীরা জানান, চকরিয়া নিউমার্কেট অনেক পুরনো বিল্ডিং। এই মার্কেট মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। আজকে মার্কেটের ড্রপওয়াল ভেঙে পড়েছে। অন্যদিন ছাদ ভেঙে পড়তে পারে। এতে যেকোনো সময় ঢাকার রানাপ্লাজা ট্রাজেডির মতো বড়ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল অবিলম্বে চকরিয়া নিউ মার্কেটটি ঝুকিপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে। পাশাপাশি আতঙ্কিত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জান-মাল রক্ষার্থে এব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঘটনার পর থেকে মার্কেট কতৃপক্ষের লোকজন কৌশলে গা ঢাকা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার কয়েকদফা তাদের খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি। সেইজন্য তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চকরিয়া পৌরসভার নকশাকার আবু রাশেদ মোহাম্মদ জাহেদ উদ্দিন বলেন, চকরিয়া নিউ মার্কেট তৈরি হয়েছে ১৯৮৫ সালে, আর চকরিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৯৪ সালে। তাই মার্কেটটি নির্মাণের সময় ইমারত নীতিমালার অনুমোদন পৌরসভা থেকে দেওয়া হয়নি।
তবে ২০০৩ সালে কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়ক সম্প্রসারণ করতে গিয়ে চকরিয়া পৌরশহরের বেশিরভাগ মার্কেটের সামনের অংশ ভেঙে উচ্ছেদ করে দেন সওজ অধিদপ্তর। পরে হাইকোর্টে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হলে মার্কেট মালিকরা ভেঙে দেওয়া মার্কেটের সামনের অংশে জোড়াতালি কাজ করে।
তিনি বলেন, ২০১১ সালে এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে চকরিয়া পৌরসভা থেকে সকল মার্কেট মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়, মার্কেটের সামনের অংশে জোড়াতালি দেওয়া কাজ অপসারণ করে ইমারত আইন অনুযায়ী সেখানে গুনগতমানের কাজ করে ঝুঁকিমুক্ত করা হোক মার্কেটগুলো। বিপরীতে মার্কেট মালিকরা পৌর কতৃপক্ষের সেই নির্দেশনা কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।
এব্যাপারে চকরিয়া পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ঠিক কী কারণে চকরিয়া নিউ মার্কেটের ড্রপওয়াল (সানসেট) ভেঙে পড়েছে
তা নির্ণয় করে পৌরসভার দুইজন প্রকৌশলীকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মার্কেট তৈরির ক্ষেত্রে কোনধরনের মাস্টারপ্ল্যান বা অনুমোদন আছে কী খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ##




মন্তব্য করুন