হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

চকরিয়ায় ৯১ মণ্ডপে শারদীয় উৎসব

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া::

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া::

সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচদিনব্যাপী এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার এই উৎসবকে ঘিরে মন্ডপে মন্ডপে পরম যত্নে প্রতিমা তৈরি করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। এখন শেষমুহূর্তে প্রতিমাগুলোতে চলছে রং-তুলির আঁচড়। মৃৎশিল্পীদের তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠেছে নানা প্রকৃতিতে তৈরি করা প্রতিমাগুলো।

শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যাচ্ছে, চকরিয়া পৌরশহরের প্রয়াত সারদা কিশোর দাশের বাড়ির উঠান ও সৎসঙ্গ কেন্দ্রে প্রতিমার গায়ে রংতুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। এখানেই তৈরি করা হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া, ঈদগাঁওসহ আশপাশের এলাকার শতাধিক মণ্ডপের প্রতিমা।

চকরিয়া পৌর শহরের সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। শিল্পীর রংতুলির ছোঁয়ায় প্রতিটি প্রতিমা জেগে উঠছে। তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে মা দুর্গা, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী, লক্ষ্মী ও মহিষাসুরের প্রতিমাগুলো।

চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং চকরিয়া পৌরসভার ৪৭টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা ও ৪৪ মণ্ডপে
২৮ সেপ্টেম্বর রোববার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচদিনব্যাপী এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে মণ্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শিল্পীদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় ইতোমধ্যে মাটির কাজ শেষ করে চলছে রঙ তুলির কাজ। শিল্পীর রঙ তুলির আঁচড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে দশভূজা দেবীদুর্গাসহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবীদুর্গা শক্তি ও সুন্দরের প্রতীক। প্রতি বছর অসুরের বিনাশে দেবী দূর্গা এই ধরাধামে আবির্ভুত হয়। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন সমাজ থেকে অন্যায় অবিচার গ্লানি দূর করার জন্যই এই পূজার আয়োজন করেন।

আরও পড়ুন

টেকনাফে পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার: রফিক বাহিনীর সদস্যসহ আটক ৫

চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সূত্রে জানা গেছে, এবার চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ৪৭টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা ও ৪৪ মণ্ডপে ঘট পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়ে আগামী ২ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী বৃহত্তম এ ধর্মীয় উৎসব সম্পন্ন হবে।

চকরিয়া উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজা। চকরিয়ার সর্বসাধারণ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। জাতি, ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই দীর্ঘবছর ধরে শারদীয় দুর্গা উৎসব পালন করে আসছে। আমরা এবারের আয়োজন উৎসবমুখর করার জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ প্রশাসনের সাথে সভা করেছি।
তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতা নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে এবারও দুর্গোৎসব উদযাপন হবে।
আমরা চাই, অতীতের ন্যায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে সবাই মিলেমিশে কাজ করবে। তবে শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে মণ্ডপ গুলোতে যাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেইদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বাবলা দেবনাথ বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ প্রশাসন মন্ডপ গুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবেন। তাই উৎসব পালনে নিরাপত্তা নিয়ে কোন ধরনের শঙ্কার কারণ নেই। এছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক সদস্যদের নিয়ে শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা পুজারীদের জন্য সার্বক্ষনিক মণ্ডপ গুলোতে কাজ করবেন। প্রয়োজন সাপেক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেবেন। প্রশাসন এব্যাপারে সার্বক্ষনিক প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষ্যে সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর
চকরিয়া সেনাবাহিনীর আয়োজনে একটি সমন্বয়সভা চকরিয়া সিটি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন রামু ক্যান্টোমেন্টের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওমর ফারুক। এছাড়াও সভায় চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, চকরিয়া সার্কেল এএসপি অভিজিৎ দাশ, চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুর আনোয়ার, বিএনপি ও জামাতের নেতৃবৃন্দ, চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ, বিভিন্ন মন্দির কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও মণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, চকরিয়া উপজেলার মন্ডপ গুলোতে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য আইন শৃংখলা বাহিনী সজাগ দৃষ্টি রাখছেন। বিভিন্ন মন্ডপের দায়িত্ব দিয়ে নিয়মিত টহল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
এছাড়াও কঠোর নিরাপত্তা জোরদারে মাঠে টহলে থাকবে সেনাবাহিনী। আশা করি পূজারীরা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব উদযাপন করতে পারবেন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এবং আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় নিছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যদিয়ে উপজেলার ৯১ মণ্ডপে এবারও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে হিন্দু সম্প্রধায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

তিনি বলেন, পাঁচদিন ব্যাপী এই উৎসব উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করবে। ইতোমধ্যে মণ্ডপ গুলোতে জেলা প্রশাসনের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন থেকে অর্থসহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ বলেন- অতীতের মতো বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহায়তায় এবারও চকরিয়া উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকবে। আমরা আশাবাদী সবার সহযোগিতা থাকবে।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সুত্রে জানা গেছে, এবার চকরিয়া উপজেলায় ৪৭টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা ও ৪৪ মণ্ডপে ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব মণ্ডপ কমিটির মাঝে ইতোমধ্যে সরকারি বরাদ্দ হিসেবে পাওয়া অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। ##

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

চকরিয়ায় ৯১ মণ্ডপে শারদীয় উৎসব

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

চকরিয়ায় ৯১ মণ্ডপে শারদীয় উৎসব

প্রতিবেদক: এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া:: | প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন
Print Image
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচদিনব্যাপী এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার এই উৎসবকে ঘিরে মন্ডপে মন্ডপে পরম যত্নে প্রতিমা তৈরি করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। এখন শেষমুহূর্তে প্রতিমাগুলোতে চলছে রং-তুলির আঁচড়। মৃৎশিল্পীদের তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠেছে নানা প্রকৃতিতে তৈরি করা প্রতিমাগুলো। শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যাচ্ছে, চকরিয়া পৌরশহরের প্রয়াত সারদা কিশোর দাশের বাড়ির উঠান ও সৎসঙ্গ কেন্দ্রে প্রতিমার গায়ে রংতুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। এখানেই তৈরি করা হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া, ঈদগাঁওসহ আশপাশের এলাকার শতাধিক মণ্ডপের প্রতিমা। চকরিয়া পৌর শহরের সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। শিল্পীর রংতুলির ছোঁয়ায় প্রতিটি প্রতিমা জেগে উঠছে। তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে মা দুর্গা, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী, লক্ষ্মী ও মহিষাসুরের প্রতিমাগুলো। চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং চকরিয়া পৌরসভার ৪৭টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা ও ৪৪ মণ্ডপে ২৮ সেপ্টেম্বর রোববার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচদিনব্যাপী এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে মণ্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শিল্পীদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় ইতোমধ্যে মাটির কাজ শেষ করে চলছে রঙ তুলির কাজ। শিল্পীর রঙ তুলির আঁচড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে দশভূজা দেবীদুর্গাসহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবীদুর্গা শক্তি ও সুন্দরের প্রতীক। প্রতি বছর অসুরের বিনাশে দেবী দূর্গা এই ধরাধামে আবির্ভুত হয়। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন সমাজ থেকে অন্যায় অবিচার গ্লানি দূর করার জন্যই এই পূজার আয়োজন করেন। চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সূত্রে জানা গেছে, এবার চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ৪৭টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা ও ৪৪ মণ্ডপে ঘট পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়ে আগামী ২ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী বৃহত্তম এ ধর্মীয় উৎসব সম্পন্ন হবে। চকরিয়া উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজা। চকরিয়ার সর্বসাধারণ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। জাতি, ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই দীর্ঘবছর ধরে শারদীয় দুর্গা উৎসব পালন করে আসছে। আমরা এবারের আয়োজন উৎসবমুখর করার জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ প্রশাসনের সাথে সভা করেছি। তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতা নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে এবারও দুর্গোৎসব উদযাপন হবে। আমরা চাই, অতীতের ন্যায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে সবাই মিলেমিশে কাজ করবে। তবে শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে মণ্ডপ গুলোতে যাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেইদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বাবলা দেবনাথ বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ প্রশাসন মন্ডপ গুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবেন। তাই উৎসব পালনে নিরাপত্তা নিয়ে কোন ধরনের শঙ্কার কারণ নেই। এছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক সদস্যদের নিয়ে শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা পুজারীদের জন্য সার্বক্ষনিক মণ্ডপ গুলোতে কাজ করবেন। প্রয়োজন সাপেক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেবেন। প্রশাসন এব্যাপারে সার্বক্ষনিক প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষ্যে সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর চকরিয়া সেনাবাহিনীর আয়োজনে একটি সমন্বয়সভা চকরিয়া সিটি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন রামু ক্যান্টোমেন্টের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওমর ফারুক। এছাড়াও সভায় চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, চকরিয়া সার্কেল এএসপি অভিজিৎ দাশ, চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুর আনোয়ার, বিএনপি ও জামাতের নেতৃবৃন্দ, চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ, বিভিন্ন মন্দির কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও মণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, চকরিয়া উপজেলার মন্ডপ গুলোতে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য আইন শৃংখলা বাহিনী সজাগ দৃষ্টি রাখছেন। বিভিন্ন মন্ডপের দায়িত্ব দিয়ে নিয়মিত টহল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়াও কঠোর নিরাপত্তা জোরদারে মাঠে টহলে থাকবে সেনাবাহিনী। আশা করি পূজারীরা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব উদযাপন করতে পারবেন। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এবং আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় নিছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যদিয়ে উপজেলার ৯১ মণ্ডপে এবারও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে হিন্দু সম্প্রধায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। তিনি বলেন, পাঁচদিন ব্যাপী এই উৎসব উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করবে। ইতোমধ্যে মণ্ডপ গুলোতে জেলা প্রশাসনের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন থেকে অর্থসহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ বলেন- অতীতের মতো বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহায়তায় এবারও চকরিয়া উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকবে। আমরা আশাবাদী সবার সহযোগিতা থাকবে। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সুত্রে জানা গেছে, এবার চকরিয়া উপজেলায় ৪৭টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা ও ৪৪ মণ্ডপে ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব মণ্ডপ কমিটির মাঝে ইতোমধ্যে সরকারি বরাদ্দ হিসেবে পাওয়া অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। ##

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×