ঢাকা, ২৮ অক্টোবর – ২০০৬ সালে ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠার তাণ্ডবের ঘটনায় দায়েরকৃত ও চার্জশিট দাখিলকৃত মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ৩০/৪০ বছর পরে মিথ্যে মামলা করে যদি মিথ্যে ফাঁসি দেওয়া যায়, তাহলে খুনি হাসিনাসহ ইনু-মেননের ১৪ দলের ফ্যাসিস্টদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের আইন মন্ত্রণালয়কে মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। তা না হলে বিদ্যমান ট্রাইব্যুনালকে দায়িত্ব দিতে হবে, তবুও ২০০৬ সালের লগি বৈঠার তাণ্ডবের বিচার হোক।
৭ নভেম্বর উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা
আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে মিছিলোত্তর এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এটা নজিরবিহীন যে, ২০০৬ সালে তারা লাশের ওপরে নাচানাচি করেছে, তেমনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও তারা জীবন্ত মানুষকে হত্যার পর মৃত লাশ পুড়িয়ে ছাই করেছে। বাংলাদেশের জনগণ আর এই ফ্যাসিস্টদের প্রশ্রয় দিতে চায় না। হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে বিচার হোক।
তিনি বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি হাসিনা দিল্লি থেকে কর্মসূচি দিচ্ছে। নভেম্বরে, প্রথম সপ্তাহে, ১৫ দিনে, বিক্ষোভ, হরতাল, ঘেরাও। আমরা সরকার, সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলবো, এই খুনিদের রাজনীতি চিরদিনের জন্য বিদায় করতে ট্রাইব্যুনালের অধীনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে৷ সেটা করতে জাতি ব্যর্থ হয়েছিল বলেই গত ১৯ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতি তার গতিপথ হারিয়ে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করেছিল। ২০২৪ সালে এসে সহস্রাধিক জনতা জীবন দিয়ে সেই ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে বিদায় করেছে, দেশকে নতুন করে স্বাধীন করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক দিন। এই দিনটি পল্টন ট্র্যাজেডি হিসেবে পরিচিত। ঐ দিন চারদলীয়জোট সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করার আগে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ২৭ অক্টোবর রাতে হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীকে লগি-বৈঠা নিয়ে রাজপথে নেমে আসার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সারাদেশে লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ১৪জন নেতাকর্মীকে হত্যা করে।
আরেক বিশেষ অতিথি সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছর শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদের নেতৃত্ব দিয়েছে। তার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সকল অপকর্মের সমান অপরাধী। তাই হাসিনাসহ ১৪ দলীয় নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ১৪ দলীয় জোটকে নিষিদ্ধ করে দেশ থেকে রাজনীতির নামে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর জামায়াত-শিবির সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে থেকে আওয়ামী লীগের অস্ত্রের মুখে দেশ রক্ষায় লড়াই করেছে। আমাদের নেতাকর্মীরা রাজপথ থেকে এক ইঞ্চি দূরেও সরে যায়নি। সেই ধারা অব্যাহত রেখে আজও জামায়াত-শিবির মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা রেখে আসছে। সেদিন বিএনপি যদি জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে একসাথে সন্ত্রাসী আওয়ামী গোষ্ঠীকে প্রতিহত করতে এগিয়ে আসতো তবে আধিপত্যদের দোসর আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৮ বছর জাতির ওপর জুলুম নির্যাতন করার সুযোগ পেতো না।
তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বরে পরিচালিত গণহত্যার শিকার শহীদ পরিবারের মতো ২৮ অক্টোবরের শহীদদের পরিবারকেও রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সহযোগিতা এবং সম্মাননা প্রদান করতে হবে।




মন্তব্য করুন