বঙ্গোপসাগরের বুক থেকে উঠে আসা দুই দ্বীপ উপজেলা—মহেশখালী ও কুতুবদিয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-২ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও, এখানেই থমকে গেল বিএনপি। ৩ নভেম্বর দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়ে দেন—“কক্সবাজার-২ আসনের প্রার্থী পরে ঘোষণা করা হবে।”
দলের এই ‘অপেক্ষা নীতি’ ঘিরে এখন সরগরম কক্সবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গন। নানা মহলে চলছে জল্পনা—জোট রাজনীতির নতুন কোনো সমীকরণ কি তৈরি হচ্ছে? বিশেষ করে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর উদীয়মান দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সঙ্গে বিএনপির সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েই চলছে আলোচনা।
এনসিপির নির্বাচন কমিটির প্রধান ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গণমাধ্যমকে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী আসনে আমরা কোনো প্রার্থী দিচ্ছি না।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত জোট রাজনীতির ইঙ্গিতই বহন করছে।
এদিকে মহেশখালী-কুতুবদিয়া এখন দেশের অন্যতম কৌশলগত অঞ্চল। কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ একের পর এক মেগাপ্রকল্পে বদলে যাচ্ছে এ দ্বীপাঞ্চলের চিত্র। এমন সময়ে এই আসনে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এএসএম সুজা উদ্দিন।
কানাডার নতুন বাজেটে কার ভাগ্যে কতটা প্রাপ্তি
একসময় সাংবাদিক ছিলেন সুজা উদ্দিন। জন্ম মহেশখালীর পাহাড়ি দ্বীপে। তরুণ এই রাজনীতিককে এখন এনসিপির “ট্রাম্পকার্ড” হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “দল যদি মনোনয়ন দেয়, আমি আশাবাদী। মহেশখালী-কুতুবদিয়ার মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ জনপদ গড়তে চাই।”
বিএনপির সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, “এটি পুরোপুরি দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। এখন পর্যন্ত তেমন কিছু হয়নি।”
অন্যদিকে কক্সবাজারের বাকি তিন আসনে বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। চকরিয়া-পেকুয়ায় দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সদর, রামু ও ঈদগাহ নিয়ে গঠিত আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল। আর উখিয়া-টেকনাফে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “কক্সবাজারে বিএনপির ঐতিহ্য ও জনভিত্তি শক্তিশালী। ইনশাআল্লাহ, আমরা জয়ী হব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্যে ২০১৮ সালে বিএনপি সব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও পরাজিত হয়েছিল। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেও কক্সবাজারের চারটি আসনের তিনটিতেই জয়ী হয় বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কক্সবাজার-২ আসনে বিএনপির নীরবতা শুধু কৌশল, না কি জোটের অংশ—সেটি জানাবে সময়ই।




মন্তব্য করুন