কক্সবাজারের পেকুয়ায় দেড়শো বছর পরেই অনুষ্ঠিত হলো ফতেহ আলী মাতবর চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক মিলনমেলা। প্রায় ১২ যুগ পর দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এ জমিদার বাড়ির মিলনমেলাকে ঘিরে বর্ণিল আয়োজনের শুভ সুচনা হয়। ‘আসুন শিখড়ের টানে দৃঢ়তার বন্ধনে ‘ এ চিন্তার প্রতিফলন ঘটাতে উপজেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড গোঁয়াখালী ফতেহ আলী মাতবর চৌধুরী বাড়ির সন্তানরা এ প্রথম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। পারিবারিক মিলনমেলাকে ঘিরে চলছিল প্রানবন্ত অনুষ্ঠানমালা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) এ মিলনমেলাকে প্রানবন্ত করতে নান্দনিক অনুষ্ঠানমালারও উদ্যোগ নেওয়া হয়। সকালে খতমে কোরআন ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ফতেহ আলী মাতবর চৌধুরীর পারিবারিক কবর জিয়ারত শেষে সকাল ১০ টার দিকে শুভ উদ্বোধন করা হয় এ মেলার আনুষ্ঠানিকতা। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সাইফুদ্দীন খালেদ।
কবিতা আবৃতি, ছড়া, কুইজ, র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মঞ্চস্থ হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। সংগীত, নৃত্যঙ্গনের তালেই এ অনুষ্ঠানকে উৎসবমুখরে পরিনত করে। দুপুরের দিকে পারিবারিক আগত সদস্যদের মাঝে ভূরিভোজের আয়োজন ছিল। বিকেলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মঞ্চে চলে গানের আসর। পারিবারিক সদস্য চট্টগ্রাম বেতার ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিল্পী ইকবাল হায়দার ও লায়েক হায়দার এর মন মাতানো সংগীত আগত দর্শকদের বিমোহিত করে। রাতে চলে অতিথি শিল্পী ও পারিবারিক উদীয়মান শিল্পীদের যৌথ অংশ গ্রহণে সংগীত আয়োজন। এ আয়োজন ছিল উৎসবমুখর।
এদিকে ফতেহ আলী মাতবর চৌধুরী পারিবারিক মিলনমেলায় এ পরিবারের সদস্যরাই অংশ গ্রহণ করেছে। গোঁয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ওই মেলা ছিল হৃদয়ের যেন ছোঁয়া।
চকরিয়ায় বন উজাড় রোধে কেবল আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, আগে দখলবাজ শ্রেনির মানুষকে সচেতন করা জরুরি
হৃদয়ের টানে, আত্মীয়তার বন্ধনে ছুটে আসে এ পরিবারের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার সন্তানগুলো। বিশেষ করে ফতেহ আলী মাতবর চৌধুরীর পরিবারের অনেক গুণীজন দেশ বিদেশে কর্মরত আছেন। সরকারি -বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে আসীন রয়েছেন। এ পরিবারে আছেন সাবেক সাংসদ, প্রখ্যাত কুটনৈতিক, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, দেশের প্রখ্যাত নামকরা চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রতিষ্ঠানের সিও, সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার, নৃত্য শিল্পী, কবি, লেখকসহ উচ্চ পর্যায়ের গুণীজন।
ওইদিন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রিফাত জাহান মীরা, মাহিম চৌধুরী, আদিবুর রহমান জ্যুতি ও আদর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আনসারুল ইসলাম চৌধুরী, ডাক্তার নাছির মাহমুদ, আজহারুল ইসলাম চৌধুরী, মহসিন হায়দার, সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. আনিসুল মাওলা, সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার শহিদুজ্জামান, গীতিকার ও সুরকার ইকবাল হায়দার, যুগ্ম সচিব সাব্বির ইকবাল, লায়েক হায়দার, ইকবাল হুদা টাইডেল, নুরুল হাসান চৌধুরী, আহসান হাবিব দুলাল, আমান উল্লাহ, নুরুল হাসান রাজনীতিবিদ শামিম ইকবাল, সোহেল ইকবাল সুমন, শিল্পপতি রাহেদুল হায়দার চৌধুরী, কাবেদুর রহমান কচি, আতিকুর রহমান চৌধুরী, সিও খালেদ কিবরিয়া, খালেদ নেওয়াজ চৌধুরী, এডভোকেট ফখরুল ইসলাম গুন্দু, প্রকাশক ও সম্পাদক মঈনুল হোসেন পলাশ, শিক্ষক কায়কোবাদ চৌধুরী, জুবায়ের ওয়ারেচী, আরজিবুল জেব্রিস চৌধুরী, আমির খসরু চৌধুরী রাসেল, আনিসুর রহমান ওয়ারেচী, রোমান চৌধুরী প্রমুক।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয়ক ছিলেন সেজিম বাদশাহ চৌধুরী, আজিজুল হক চৌধুরী রিপন, মো.সোহরাব চৌধুরী ও মশিউর রহমান চৌধুরী মিন্টু।




মন্তব্য করুন