কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক তিনটি মাদকবিরোধী অভিযানে ৩২ হাজার ৭৫০ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৬ পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাচারের ক্ষেত্রে এবার পেটের ভেতরে ইয়াবা গেলা এবং বোরকার আড়ালে লুকিয়ে রাখার মতো অভিনব সব কৌশল ব্যবহার করেছে মাদক কারবারিরা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রেজুখাল চেকপোস্টে তল্লাশিকালে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি সিএনজি থামানো হয়। বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হলে সিএনজিতে থাকা দুই রোহিঙ্গা যাত্রী মো. হোসেন (২৮) ও মো. ওসমান গনিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন যে, তারা বিশেষ কায়দায় ইয়াবা গিলে পেটের ভেতরে বহন করছেন। পরে তাদের হাসপাতালে নিয়ে পায়ুপথের মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৫০ পিস বার্মিজ ইয়াবা বের করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ২টি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
একই দিন সন্ধ্যায় ঘুমধুম বিওপির একটি চৌকস টহল দল উখিয়ার মন্ডলপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। সীমান্ত পিলার ৩১/২-আর এর নিকটবর্তী এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় তিন রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন— মো. সাইফুর আলম (১৯), মো. আব্দুল হায়াত (১৮) ও মো. আল কামাল (২১)। তাদের তল্লাশি করে ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তারা সবাই উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের ‘বার আউলিয়া’
১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রেজুখাল চেকপোস্টে আরও একটি অভিযান চালানো হয়। টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি অটোরিকশা তল্লাশিকালে মোছাঃ হাসনা বেগম (৩৫) নামে এক নারী যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে নারী বিজিবি সদস্যদের মাধ্যমে তাকে তল্লাশি করা হয়। এসময় তার পরিহিত বোরকার ভেতর অভিনব কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৬ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক হাসনা বেগম কক্সবাজার সদরের নুনিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা।
৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, “মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত কৌশল বদলাচ্ছে, কিন্তু বিজিবি সদস্যরা আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের রুখে দিতে সক্ষম হচ্ছে। বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।




মন্তব্য করুন