ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি – ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রকল্পের তহবিল সরাসরি শিল্প খাতে অর্থায়ন না করে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে। ওই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার অর্থে কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এই অনুমোদন দিয়েছিলেন সদ্য বিদায়ি গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, যিনি অন্তর্বর্তী সরকার আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।
সেকেন্ড স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম সাইজড এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট বা এসএমইডিপি-২ নামক এই প্রকল্পে ছয় সদস্যের একটি বিনিয়োগ কমিটি রয়েছে। কমিটির সদস্য ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা অর্জনে বিদেশ ভ্রমণের কথা থাকলেও ভিসার জন্য সুইস দূতাবাসের সময়সূচি না পাওয়ায় সফরটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য গ্রামীণ ও শহরের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান এবং ২০৩০ সাল নাগাদ প্রায় ১৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। জানা গেছে, প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ সরকারি ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করে যে মুনাফা হয়েছে তার ২৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে এবং ১০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমা রাখা হয়।
টোকিওর মতবিনিময় সভায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রোডম্যাপ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জমাকৃত এই মুনাফার অর্থেই কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে ‘গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিং ভিজিট অন এসএমই ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম’ শীর্ষক বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী মার্চে এই সফরে যাওয়ার কথা ছিল এবং ৯ ফেব্রুয়ারি সরকারি আদেশ জারির জন্য অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, প্রকল্পের ঘূর্ণায়মান তহবিলের অর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের না দিয়ে বন্ডে বিনিয়োগ করায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।
এছাড়া অর্থনৈতিক সংকট ও ডলার সাশ্রয়ে সরকারি অর্থে বিদেশ ভ্রমণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কঠোর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মুনিরা ইসলাম জানান, ইনভেস্টমেন্ট পলিসি অনুসরণ করেই এবং তহবিলের মূলধন হ্রাস রোধ করতে ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এতে লাভবান হওয়ায় গভর্নর বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন দিয়েছিলেন, যার সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ভিসা জটিলতায় বর্তমানে সফরটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এস এম/ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন