হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

ভেঙে গেছে পেকুয়ার সোনালী বাজার স্লুইসগেট, তলিয়ে গেছে লবণমাঠ

নাজিম উদ্দিন, পেকুয়া ::

নাজিম উদ্দিন, পেকুয়া ::

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

পেকুয়া উপজেলার কাটাফাঁড়ি ব্রিজ থেকে উজানটিয়া করিমদাদ মিয়ার জেটি ঘাট সড়কের সোনালী বাজার সংলগ্ন ৩৪ নম্বর স্লুইসগেটটি ফের ভেঙে গেছে। এতে পশ্চিম ও দক্ষিণ পেকুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভেঙে যাওয়া স্লুইসগেট দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকায় লবণমাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকের উৎপাদিত মজুদকরা কাঁচা লবণ মিঠা পানির সাথে মেশে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে হয়ে লবণচাষীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ীভাবে মেরামতের মাধ্যমে স্লুইসগেটটি সচল রাখা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ও প্লাবনের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে টেকসই নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

সোনালী বাজারস্থ এ স্লুইসগেটটির উপর কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ও মৎস্য প্রজেক্ট নির্ভরশীল। মাত্র কয়েক মাস আগে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হলেও অল্প দিনের ব্যবধানে সেটি আবার ভেঙে পড়ে। এতে মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার লবণ ও মৎস্যচাষী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

আরও পড়ুন

কানাডার নতুন বাজেটে কার ভাগ্যে কতটা প্রাপ্তি

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহাবুব আলম মাহাবুব জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অস্থায়ী মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বরাদ্দের জন্য স্টিমেট প্রস্তুত করছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই টেকসই স্লুইসগেট নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক কারণে স্লুইসগেটটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার মেরামত করা হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

তিনি আশা করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত উদ্যোগ নেবে।
তিনি আরও বলেন, আপাতত পানি ঠেকাতে জিও ব্যাগ ও মাটি দিয়ে ভাঙন অংশ ভরাট করা হবে।

ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, স্থায়ী নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গেলে তারা এলজিইডির দায়িত্ব বলে জানায়, আর এলজিইডির কাছে গেলে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কথা বলে। দুই দপ্তরের এই দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।

ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দ্রুত মেরামত না করা হলে প্রায় ৫ হাজার একর লবণ চাষ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহ আলম জানান, চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধান না হলে পুরো এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় ৯ মাস আগে মেরামত করা হলেও তা ছিল সাময়িক ব্যবস্থা। স্থায়ী ও টেকসই স্লুইসগেট নির্মাণ না হলে প্রতি বছরই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

ভেঙে গেছে পেকুয়ার সোনালী বাজার স্লুইসগেট, তলিয়ে গেছে লবণমাঠ

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

ভেঙে গেছে পেকুয়ার সোনালী বাজার স্লুইসগেট, তলিয়ে গেছে লবণমাঠ

প্রতিবেদক: নাজিম উদ্দিন, পেকুয়া :: | প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
Print Image
পেকুয়া উপজেলার কাটাফাঁড়ি ব্রিজ থেকে উজানটিয়া করিমদাদ মিয়ার জেটি ঘাট সড়কের সোনালী বাজার সংলগ্ন ৩৪ নম্বর স্লুইসগেটটি ফের ভেঙে গেছে। এতে পশ্চিম ও দক্ষিণ পেকুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভেঙে যাওয়া স্লুইসগেট দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকায় লবণমাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকের উৎপাদিত মজুদকরা কাঁচা লবণ মিঠা পানির সাথে মেশে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে হয়ে লবণচাষীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ীভাবে মেরামতের মাধ্যমে স্লুইসগেটটি সচল রাখা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ও প্লাবনের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে টেকসই নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। সোনালী বাজারস্থ এ স্লুইসগেটটির উপর কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ও মৎস্য প্রজেক্ট নির্ভরশীল। মাত্র কয়েক মাস আগে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হলেও অল্প দিনের ব্যবধানে সেটি আবার ভেঙে পড়ে। এতে মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার লবণ ও মৎস্যচাষী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহাবুব আলম মাহাবুব জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অস্থায়ী মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বরাদ্দের জন্য স্টিমেট প্রস্তুত করছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই টেকসই স্লুইসগেট নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক কারণে স্লুইসগেটটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার মেরামত করা হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে স্থায়ী সমাধান মিলছে না। তিনি আশা করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত উদ্যোগ নেবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত পানি ঠেকাতে জিও ব্যাগ ও মাটি দিয়ে ভাঙন অংশ ভরাট করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, স্থায়ী নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গেলে তারা এলজিইডির দায়িত্ব বলে জানায়, আর এলজিইডির কাছে গেলে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কথা বলে। দুই দপ্তরের এই দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দ্রুত মেরামত না করা হলে প্রায় ৫ হাজার একর লবণ চাষ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহ আলম জানান, চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধান না হলে পুরো এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় ৯ মাস আগে মেরামত করা হলেও তা ছিল সাময়িক ব্যবস্থা। স্থায়ী ও টেকসই স্লুইসগেট নির্মাণ না হলে প্রতি বছরই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×