কাঠমান্ডু, ৬ মার্চ – নেপালে সাধারণ নির্বাচনের পর ভোট গণনা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে তরুণ প্রজন্মের পছন্দের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বা আরএসপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে। চলতি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিল এই দলটি। প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে আরএসপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই সরকার গঠন করতে চলেছে।
দলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হলেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র এবং জনপ্রিয় র্যাপার বালেন্দ্র শাহ। জেন-জি আন্দোলনের সময় প্রশাসনের অংশ হয়েও শিক্ষার্থীদের অভ্যুত্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন বালেন নামে পরিচিত এই নেতা। গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ সমাজের অঘোষিত নেতা হিসেবে তাকেই ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান নেপালের অধিকাংশ তরুণ ভোটার।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলে কয়েকটি আসনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্পের দল
বালেন্দ্রের দলের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী রবি লামিছানে। তিনি একজন সাবেক টেলিভিশন সাংবাদিক এবং লাইভ শোতে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলার জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।
জানা গেছে যে ঝাপা-৫ আসনে বালেন্দ্র শাহ এগিয়ে রয়েছেন যেখানে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের প্রধান কেপি শর্মা ওলি।
প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে ওলির দল নির্বাচনে ভোটারদের মাঝে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেনি। ১৬৫টি আসনে অনুষ্ঠিত প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মধ্যে মাত্র ৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে ওলির দল। অন্যদিকে বালেন্দ্রের আরএসপি এগিয়ে রয়েছে ৯০টি আসনে।
উল্লেখ্য যে নেপালের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের তুলনা করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে পুরনো দলের ওপর আস্থা রাখলেও নেপালের ভোটাররা নতুন দল ও নেতৃত্বের ওপরই বেশি আস্থা রেখেছেন বলে ফলাফলে ইঙ্গিত মিলছে।
এনএন/ ৬ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন