হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

পেকুয়ায় শব্দদূষণের দাপট:মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া::

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া::

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে শব্দদূষণ। যত্রতত্র গড়ে ওঠা প্রাইভেট ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাব ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের উচ্চস্বরে মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং ইসলামিক বক্তাদের আগমন উপলক্ষেও চলছে উচ্চ শব্দে প্রচারণা। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যেন থামছেই না শব্দের তাণ্ডব।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোরে ঘুম থেকে ওঠার আগেই কানে ভেসে আসে অমুক ডাক্তার আজ রোগী দেখবেন,অমুক ক্লিনিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বসবেন ইত্যাদি ঘোষণা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রিকশা, অটোরিকশা কিংবা ভ্যানগাড়িতে বসানো মাইক দিয়ে এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

শুধু তাই নয়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম, কোচিং সেন্টারের প্রচারণা এবং ওয়াজ মাহফিলের দাওয়াতেও মাইকের ব্যবহার বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। বিশেষ করে ইসলামিক ওয়াজি বক্তাদের আগমন উপলক্ষে কয়েকদিন আগে থেকেই উচ্চস্বরে প্রচারণা চালানো হয়, যা জনজীবনে চরম বিরক্তির সৃষ্টি করছে।

স্কুল শিক্ষার্থী সাবিহা নাজনীন প্রমি বলেন, এসএসসি চলছে।
পরীক্ষার সময় পড়তে বসলে বাইরের মাইকের শব্দে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। সকাল থেকে বারবার একই প্রচারণা শুনতে হয়। এতে পড়াশোনায় অনেক সমস্যা হয়।

আরও পড়ুন

চকরিয়ায় বন উজাড় রোধে কেবল আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, আগে দখলবাজ শ্রেনির মানুষকে সচেতন করা জরুরি

পেকুয়া বাজারের চায়ের দোকান ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন,
সারাদিন দোকানে বসে এত শব্দ শুনতে শুনতে মাথা ধরে যায়। কাস্টমাররাও বিরক্ত হন। অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে কথাও বলা যায় না।

একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছরওয়ার কামাল বলেন,
শব্দদূষণ শুধু বিরক্তির কারণ নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। শিশুদের মনোযোগ নষ্ট হয়, মানসিক চাপ বাড়ে এবং শ্রবণশক্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

পেকুয়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক নারী বলেন,
বাজারে এলেই চারদিকে শুধু মাইকের শব্দ। মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও ছোট শিশুদের জন্য এটা খুব কষ্টকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন শব্দদূষণের মধ্যে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মানসিক অস্থিরতা, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশুদের শিক্ষাজীবনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রাইভেট ক্লিনিক, ল্যাব ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পেকুয়াবাসীর প্রত্যাশা অপ্রয়োজনীয় মাইকিং বন্ধ করে শান্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

পেকুয়ায় শব্দদূষণের দাপট:মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

পেকুয়ায় শব্দদূষণের দাপট:মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রতিবেদক: নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া:: | প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
Print Image
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে শব্দদূষণ। যত্রতত্র গড়ে ওঠা প্রাইভেট ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাব ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের উচ্চস্বরে মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং ইসলামিক বক্তাদের আগমন উপলক্ষেও চলছে উচ্চ শব্দে প্রচারণা। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যেন থামছেই না শব্দের তাণ্ডব। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোরে ঘুম থেকে ওঠার আগেই কানে ভেসে আসে অমুক ডাক্তার আজ রোগী দেখবেন,অমুক ক্লিনিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বসবেন ইত্যাদি ঘোষণা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রিকশা, অটোরিকশা কিংবা ভ্যানগাড়িতে বসানো মাইক দিয়ে এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম, কোচিং সেন্টারের প্রচারণা এবং ওয়াজ মাহফিলের দাওয়াতেও মাইকের ব্যবহার বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। বিশেষ করে ইসলামিক ওয়াজি বক্তাদের আগমন উপলক্ষে কয়েকদিন আগে থেকেই উচ্চস্বরে প্রচারণা চালানো হয়, যা জনজীবনে চরম বিরক্তির সৃষ্টি করছে। স্কুল শিক্ষার্থী সাবিহা নাজনীন প্রমি বলেন, এসএসসি চলছে। পরীক্ষার সময় পড়তে বসলে বাইরের মাইকের শব্দে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। সকাল থেকে বারবার একই প্রচারণা শুনতে হয়। এতে পড়াশোনায় অনেক সমস্যা হয়। পেকুয়া বাজারের চায়ের দোকান ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, সারাদিন দোকানে বসে এত শব্দ শুনতে শুনতে মাথা ধরে যায়। কাস্টমাররাও বিরক্ত হন। অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে কথাও বলা যায় না। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছরওয়ার কামাল বলেন, শব্দদূষণ শুধু বিরক্তির কারণ নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। শিশুদের মনোযোগ নষ্ট হয়, মানসিক চাপ বাড়ে এবং শ্রবণশক্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পেকুয়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক নারী বলেন, বাজারে এলেই চারদিকে শুধু মাইকের শব্দ। মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও ছোট শিশুদের জন্য এটা খুব কষ্টকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন শব্দদূষণের মধ্যে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মানসিক অস্থিরতা, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশুদের শিক্ষাজীবনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রাইভেট ক্লিনিক, ল্যাব ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পেকুয়াবাসীর প্রত্যাশা অপ্রয়োজনীয় মাইকিং বন্ধ করে শান্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×