হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

মরণবাঁধ ফারাক্কার ৫০ বছর: আজ ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন


ঢাকা, ১৬ মে – আজ ১৬ মে, ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবসের ৫০ বছর পূর্তি বা সুবর্ণ জয়ন্তী। আজ থেকে ঠিক পাঁচ দশক আগে, ১৯৭৬ সালের এই দিনে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যার দাবিতে গর্জে উঠেছিল টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর দূরদর্শী নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইতিহাসের সেই কালজয়ী ‘ফারাক্কা লংমার্চ’, যা কাঁপিয়ে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলকে।

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান থেকে লাখো জনতার বজ্রকণ্ঠে শুরু হওয়া সেই লংমার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট হাইস্কুল মাঠে গিয়ে এক বিশাল মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নদী বাঁচানোর এই লড়াই আজ ৫০ বছরে পদার্পণ করলেও, ফারাক্কার সেই মরণকামড় থেকে আজও মুক্তি পায়নি বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন

গ্রাম পুলিশকে প্রাতিষ্ঠানিক পুলিশের স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের

কী ঘটেছিল ১৯৭৬ সালে?

১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল ভারত পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালু করার পরপরই বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তার ভয়াবহ পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পদ্মার পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় কৃষি, সেচ, নৌচলাচল এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ পদ্মা অববাহিকা শুষ্ক মৌসুমে মরুভূমিতে পরিণত হতে শুরু করে।

এই চরম অন্যায়ের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানী ডাক দেন রাজপথের লড়াইয়ের। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে লাখো মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে লংমার্চে শামিল হন। পরদিন কানসাটের মাঠে দাঁড়িয়ে মওলানা ভাসানী ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, “আজ কানসাটে যে ইতিহাস শুরু হলো, তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জাতির রুখে দাঁড়ানোর জ্বলন্ত নজির।”

গবেষকদের দেওয়া চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য:

  • ৫০% আয়তন হ্রাস: ১৯৮৪ সালের তুলনায় রাজশাহী অংশে গঙ্গা নদীর আয়তন কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। কমেছে গভীরতা ও পানির তীব্র প্রবাহ।
  • লবণাক্ততার আগ্রাসন: দেশের দক্ষিণাঞ্চলে স্বাদু পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা ধ্বংস করছে কৃষি ও বনভূমি।
  • ভূগর্ভস্থ পানির সংকট: উত্তরাঞ্চল জুড়ে সেচ সংকট এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হু হু করে নিচে নেমে যাচ্ছে।
  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ১৯৯৬ সালে ভারতের সাথে বাংলাদেশের যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি হয়েছিল, তার মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরেই শেষ হতে চলেছে। তবে এই চুক্তির অধীনেও বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত পানির হিস্যা পুরোপুরি পায়নি বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।

ফারাক্কা দিবসে আজ দেশজুড়ে একঝাঁক কর্মসূচি

ঐতিহাসিক এই দিনটি স্মরণে এবং পানির ন্যায্য অধিকারের দাবিতে আজ রাজধানী ঢাকাসহ রাজশাহীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে:

বিএনপির আলোচনা সভা: রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)-এ বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

অন্যান্য কর্মসূচি: এছাড়া রাজশাহীর বড়কুঠি এলাকা এবং রাজধানীর তোপখানা রোডেও পৃথক আলোচনা সভা ও গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

এনএন/ ১৬ মে ২০২৬


coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

জাতীয়
Card Image

মরণবাঁধ ফারাক্কার ৫০ বছর: আজ ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

মরণবাঁধ ফারাক্কার ৫০ বছর: আজ ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন
Print Image
[ad_1] ঢাকা, ১৬ মে – আজ ১৬ মে, ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবসের ৫০ বছর পূর্তি বা সুবর্ণ জয়ন্তী। আজ থেকে ঠিক পাঁচ দশক আগে, ১৯৭৬ সালের এই দিনে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যার দাবিতে গর্জে উঠেছিল টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর দূরদর্শী নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইতিহাসের সেই কালজয়ী ‘ফারাক্কা লংমার্চ’, যা কাঁপিয়ে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলকে।রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান থেকে লাখো জনতার বজ্রকণ্ঠে শুরু হওয়া সেই লংমার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট হাইস্কুল মাঠে গিয়ে এক বিশাল মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নদী বাঁচানোর এই লড়াই আজ ৫০ বছরে পদার্পণ করলেও, ফারাক্কার সেই মরণকামড় থেকে আজও মুক্তি পায়নি বাংলাদেশ।কী ঘটেছিল ১৯৭৬ সালে?১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল ভারত পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালু করার পরপরই বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তার ভয়াবহ পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পদ্মার পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় কৃষি, সেচ, নৌচলাচল এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ পদ্মা অববাহিকা শুষ্ক মৌসুমে মরুভূমিতে পরিণত হতে শুরু করে।এই চরম অন্যায়ের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানী ডাক দেন রাজপথের লড়াইয়ের। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে লাখো মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে লংমার্চে শামিল হন। পরদিন কানসাটের মাঠে দাঁড়িয়ে মওলানা ভাসানী ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, “আজ কানসাটে যে ইতিহাস শুরু হলো, তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জাতির রুখে দাঁড়ানোর জ্বলন্ত নজির।”গবেষকদের দেওয়া চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য:৫০% আয়তন হ্রাস: ১৯৮৪ সালের তুলনায় রাজশাহী অংশে গঙ্গা নদীর আয়তন কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। কমেছে গভীরতা ও পানির তীব্র প্রবাহ।লবণাক্ততার আগ্রাসন: দেশের দক্ষিণাঞ্চলে স্বাদু পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা ধ্বংস করছে কৃষি ও বনভূমি।ভূগর্ভস্থ পানির সংকট: উত্তরাঞ্চল জুড়ে সেচ সংকট এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হু হু করে নিচে নেমে যাচ্ছে।গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ১৯৯৬ সালে ভারতের সাথে বাংলাদেশের যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি হয়েছিল, তার মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরেই শেষ হতে চলেছে। তবে এই চুক্তির অধীনেও বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত পানির হিস্যা পুরোপুরি পায়নি বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।ফারাক্কা দিবসে আজ দেশজুড়ে একঝাঁক কর্মসূচিঐতিহাসিক এই দিনটি স্মরণে এবং পানির ন্যায্য অধিকারের দাবিতে আজ রাজধানী ঢাকাসহ রাজশাহীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে:বিএনপির আলোচনা সভা: রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)-এ বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।অন্যান্য কর্মসূচি: এছাড়া রাজশাহীর বড়কুঠি এলাকা এবং রাজধানীর তোপখানা রোডেও পৃথক আলোচনা সভা ও গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।এনএন/ ১৬ মে ২০২৬ [ad_2]

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×