সিলেট, ১ জুন – সিলেটে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ ও গণধর্ষণের দায়ে দীর্ঘ ১৪ বছর পর দুই যুবককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত আসামিদের চরম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির রায় ঘোষণা করেন।
বুধবার (১ জুলাই, ২০২৬) সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল)-এর বিচারক বেগম রুবাইয়া ইয়াসমিন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
ইনানীতে নিয়ন্ত্রণহীন গ্যাসের আগুন ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎহীন ৩ হাজার ৮০০ পরিবার
সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নূর আহমেদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন:
১. জয়নাল আবেদিন (২৫): বিশ্বনাথ থানার শাহবাজপুর এলাকার মো. আশিক আলীর ছেলে।
২. নাজিম উদ্দিন (২৫): একই থানার কান্দিরগাও এলাকার মো. মঈনুদ্দিনের ছেলে।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর। সেদিন বিকেলে ওই কিশোরী নিজের বাড়ি থেকে নানার বাড়ি যাচ্ছিল। পথে বিশ্বনাথ থানার শাহবাজপুর এলাকায় জয়নাল আবেদিন ওই কিশোরীকে একা পেয়ে ফুসলিয়ে তার বাড়ির সামনে থেকে ডেকে একটি ফাঁকা বসতঘরে নিয়ে যান।
সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে বসে ছিলেন নাজিম উদ্দিন। এরপর জয়নাল ও নাজিম ওই কিশোরীকে আটকে রেখে পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে।
মেয়ের সাহসিকতা ও মায়ের উদ্ধার অভিযান
ধর্ষণের পর প্রধান আসামি জয়নাল ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে, নির্যাতিতা কিশোরী চরম সাহসিকতার পরিচয় দেয়। সে ঘরে পড়ে থাকা জয়নালের মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে নিজের মায়ের কাছে ফোন করে পুরো ঘটনা ও নিজের অবস্থানের কথা জানায়।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবসান
ভয়াল এই ঘটনার পর ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর বিশ্বনাথ থানায় ওই কিশোরীর পরিবার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। এরপর পুলিশ তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে মামলার সাক্ষী ও আইনি শুনানি শেষে আদালত আজ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় লাগলেও এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি ন্যায়বিচার পেয়েছে। এই ধরনের কঠোর রায় সমাজে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা এবং জঘন্য অপরাধ দমনে একটি কঠোর বার্তা দেবে।
এনএন/ ১ জুন ২০২৬




মন্তব্য করুন