কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও দফায় দফায় বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের শব্দ শোনা গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ও হ্নীলা সীমান্তসংলগ্ন রাখাইনের বলিবাজার ও কুমিরখালী এলাকায় এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে সীমান্তের এপারের কয়েকটি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, দুপুরের দিকে রাখাইনের বলিবাজার ও কুমিরখালী এলাকা থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। এ পর্যন্ত অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে তিনি জানান।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, প্রায় এক বছর আগে একই সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল। তখন সীমান্তের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন আতঙ্কে ছিলেন। নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
টেকনাফে সিএনজির বিশেষ চেম্বার থেকে ১৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, চালক আটক
টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, সকাল থেকেই কয়েক দফা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হ্নীলার মৌলভীবাজার এলাকার জেলে রহমত উল্লাহ বলেন, সকালে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। দুপুরের দিকে রাখাইন সীমান্ত থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ করে ফিরে আসেন।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিস্ফোরণের শব্দ শোনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের সময় উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তজুড়ে মর্টার শেল বিস্ফোরণ ও ভারী গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল।
এরপর কয়েক মাস ধরে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন রাখাইনের বিস্তীর্ণ এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান অভিযান তুলনামূলক কমে আসে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবারের বিমান হামলার পর আবারও সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে।
এদিকে রাখাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক দাবি করেছে, বুধবার বুথিডং উপজেলার কিয়েত মাউক তাউং (মুসলিম) গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী একটি যুদ্ধবিমান ও একটি ওয়াই-১২ উড়োজাহাজ থেকে দুটি ৫০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করে।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ওই হামলায় প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশু আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের উরুর হাড় ভেঙে গেছে এবং অন্য দুজন স্প্লিন্টারের আঘাত পেয়েছেন। হামলায় অন্তত ১০টি মুসলিম পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।এর আগে ২৪ জুন মংডু শহরে বিমান হামলায় দুই শিক্ষার্থী আহত এবং ১০টির বেশি হিন্দু পরিবারের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করে একই সংবাদমাধ্যম।
এছাড়া ১৭ জুন কিয়াউকতাও শহর ও লান মা দাও গ্রামে বিমান হামলায় নয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১৮ জন আহত হওয়ার তথ্যও তারা প্রকাশ করে।তবে গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্কের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।




মন্তব্য করুন