টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, যোগাযোগ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১১ জুলাই) সকালে
কক্সবাজার-২,মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ক্ষতিগ্রস্ত কুতুবজোম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি কুতুবজোম ইউনিয়নের বটতলী, তাজিয়াকাটা, ঘটিভাঙা বাজার স্টেশন, পশ্চিমপাড়া ও ডেম্বনিপাড়াসহ জলাবদ্ধতা ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগ, বসতঘরের ক্ষয়ক্ষতি,চলাচলের সমস্যা,খাদ্যসংকট এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে অবহিত হন।
এ সময় সংসদ সদস্য বলেন,দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো জনপ্রতিনিধিদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পান, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন।
কানাডার নতুন বাজেটে কার ভাগ্যে কতটা প্রাপ্তি
এদিকে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন জানায়, অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ,দুর্গত মানুষের প্রয়োজন নিরূপণ এবং তালিকাভুক্ত পরিবারগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে সরকারি ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের সময় শুধু খাদ্য বা ত্রাণসামগ্রী নয়, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সরাসরি উপস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দুর্গত মানুষের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই আশা প্রকাশ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো মেরামত এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা দুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,মহেশখালীর নিম্নাঞ্চল গুলোতে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও বন্যাসদৃশ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তাই তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, খাল পুনঃখনন,ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।




মন্তব্য করুন