কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া ডেইলপাড়া এলাকায় এক জেলেকে অপহরণ করে মারধর, মুক্তিপণ দাবি এবং বসতবাড়িতে হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ওই জেলের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মেয়ে তানজিনা আক্তার (২০) সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, আব্দুর রহমান (৪৫) পেশায় একজন জেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে উলুবনিয়া ডেইলপাড়া এলাকায় একদল ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করে। পরে তাঁকে জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে কথিতভাবে হারিয়ে যাওয়া ইয়াবার একটি চালান উদ্ধার করে দেওয়ার জন্যও চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আব্দুর রহমানের পরিবারের দাবি, তিনি একজন সাধারণ জেলে। মাদক বা ইয়াবা-সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তাঁকে অপহরণ করে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
উখিয়ায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম, তিন ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ, আটকা কয়েক হাজার যানবাহন
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরদিন ১৪ জুলাই সকাল ১০টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আব্দুর রহমানের বসতবাড়িতে হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো, ঘরবাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা এবং নারী সদস্যদের মারধরের চেষ্টা করা হয়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
চলে যাওয়ার আগে থানায় অভিযোগ করলে পরিবারের সবাইকে হত্যা এবং লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর মেয়ে তানজিনা আক্তার বলেন, “আমার বাবা একজন সাধারণ জেলে। তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে আমরা তাঁর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমরা খুব আতঙ্কে আছি। যাঁরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আমার বাবাকে জীবিত উদ্ধার এবং আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য কয়েক দফা চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। উল্টো অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরিবারের নারী ও শিশুরা ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অপহরণের শিকার জেলেকে উদ্ধারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।”
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অপহৃত জেলেকে উদ্ধার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।




মন্তব্য করুন