মিয়ানমার থেকে নদীপথ পাড়ি দিয়ে মাথায় বস্তা বোঝাই করে ইয়াবা পাচারের সময় হাফিজ উল্লাহ (২১) নামের এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)।
এ সময় তার কাছ থেকে আনুমানিক ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আনজুমানপাড়া গ্রামের খালের মুখ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক হাফিজ উল্লাহ উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (এফডিএমএন, ক্যাম্প-১৮, ব্লক-ই/১৮) বাসিন্দা আবদুস শুক্কুরের ছেলে।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি’র অধিনায়ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পালংখালী বিওপি’র একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৮ থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার উত্তরে এবং শূন্য রেখা থেকে মাত্র ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আনজুমানপাড়া পানির পয়েন্ট সংলগ্ন খালের মুখে কৌশলগত অবস্থান নেয়। সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে নদীপথ ব্যবহার করে মিয়ানমার দিক থেকে এক ব্যক্তিকে মাথায় বস্তা নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করেন।
হাসপাতালে ভর্তি শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে ওই যুবক বস্তাসহ নদীপথে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি টহল দল ধাওয়া দিয়ে হাফিজ উল্লাহকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে তার মাথায় থাকা বস্তাটি তল্লাশি করে খাকী রঙের প্যাকেটের ভেতর নীল রঙের ১২টি কাটে রাখা সর্বমোট ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক স্বীকার করেছে যে, সে এই ইয়াবার চালান মিয়ানমার সীমান্ত থেকে সংগ্রহ করে বাংলাদেশে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছিল।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি’র অধিনায়ক জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য মাদক সরবরাহকারী ও চোরাকারবারীদের শনাক্ত করতে সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। যুবসমাজকে রক্ষায় বিজিবি’র এই ধরনের বিশেষ আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।




মন্তব্য করুন