উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি হিসেবে টানা তিনবার দায়িত্ব পালন করা সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
পোস্টে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে অনেক বিষয়ে তিনি নীরব থেকেছেন। বর্তমানে ওই দায়িত্বে না থাকায় নিজের অবস্থান প্রকাশ্যে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি স্বাধীন। তাঁর দাবি, এবার থেকে তিনি আর নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবেন না।
নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার বলেন, এসবের জবাব তিনি তথ্য, প্রমাণ, প্রতিউত্তর ও যুক্তির মাধ্যমে দেবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ারের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—চোখের আড়ালে কত রাত নীরবে কেঁদেছি,নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি—তার সাক্ষী শুধু দেয়াল আর অন্ধকার।
চকরিয়ায় বৃত্তি পরীক্ষার নামে রমরমা বাণিজ্য, প্রতারনার শিকার শিক্ষার্থীরা, ১৪৫ বিদ্যালয়ে জরুরি নোটিশ
অথচ প্রকাশ্য মঞ্চে গল্পটা এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যেন আমিই ষড়যন্ত্রের কারিগর, আমিই বেঈমান মীর জাফর, আমিই মোনাফেক, আমিই কারও কারও জয়-পরাজয়ের কারিগর বা নাটের গুরু, আমিই সব নাটকের পরিচালক।
কেউ জানতে চায়নি—কারা পর্দার আড়ালে সুতো টেনেছে, কারা গল্প লিখেছে, আর কারা নিজেদের স্বার্থে সত্যকে বিকৃত করে নতুন নতুন চরিত্র দাঁড় করে যাচ্ছে।
রুচির দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত মানুষের সঙ্গে তর্ক করা অনেকটা মরুভূমিতে গোলাপ চাষ করার মতো—পরিশ্রম প্রচুর, ফলাফল শূন্য। তাই অনেক কথার উত্তর না দেওয়াটাকেই এতদিন শ্রেয় মনে করেছি।
সময় বড় নির্মম বিচারক। আজ যারা গল্পের নিয়ন্ত্রক, কাল হয়তো তাদেরই মুখোশ খুলে যাবে। ইতিহাস কাউকে চিরকাল আড়াল করে রাখে না।
আমি নীরব ছিলাম, কারণ আমি দুর্বল ছিলাম না। নিজের প্রতি আমার আত্মবিশ্বাস ছিল—আমি কী করতে পারি, কতটা করতে পারি এবং কখন কী করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে আমি যথেষ্ট সচেতন ও ধৈর্য্যশীল ছিলাম।
উখিয়া প্রেস ক্লাবের মতো সুনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড টানা তিন মেয়াদে সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদে থাকায় সেই পদের মর্যাদা রক্ষার দায়বদ্ধতা আমার ছিল। তাই নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও ক্লাবের স্বার্থে, সদস্যদের মঙ্গলার্থে এবং পদের মর্যাদা ধরে রাখতে দীর্ঘদিনের কষ্ট, অবহেলা, অপমান,অপপ্রচার, মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করা ও বাহু শক্তি প্রদর্শন ধৈর্যের সঙ্গে নীরবে সহ্য করে গেছি।
আমি কখনও নিজেকে অসাধারণ প্রমাণ করতে চাইনি। সাধারণ একজন মানুষ হিসেবেই থাকতে চেয়েছি সবসময়। বিনয় ও আত্মসম্মানকে সঙ্গী করে চলতে চেয়েছি। কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজের ও পদের মর্যাদা বিসর্জন দেওয়ারও ইচ্ছা আমার কখনও ছিল না।
আমি তোমাদের মতো নারীর ইজ্জত লুণ্ঠনকারী হতে চাইনি এবং প্রতারণা করে, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িয়ে, চাঁদাবাজি করে ও চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে জেলে যেতে চাইনি ও মামলার আসামি হতে চাইনি!
কিন্তু মনে রাখা দরকার—নীরবতারও একটা সীমা আছে।
এখন থেকে আমার ভূমিকা বদলেছে।
Tit for tat—যে যেমন আচরণ করবে, জবাবও হবে সে অনুযায়ী। ইনশাআল্লাহ।
যারা আমার নীরবতাকে দুর্বলতা, ধৈর্যকে অক্ষমতা আর দায়িত্বশীলতাকে ভয় ভেবেছেন—তাদের জন্য সময় এসেছে সেই ভুল ধারণা বদলানোর।
এতদিন আমি সম্মানজনক একটি পদের মর্যাদা রক্ষায় অনেক কিছুই চেপে গেছি। আজ সেই পদে নেই। তাই দায়িত্বের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত, রাজনৈতিক চাপমুক্ত এবং নিজের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
যারা এতদিন আড়ালে থেকে গল্প লিখেছেন, চরিত্র বানিয়েছেন কিংবা অপপ্রচার চালিয়েছেন—এবার সামনে আসুন, তোমাদের মোকাবিলা করতে আমি এখন প্রস্তুত!
আমি আর নীরব দর্শক নই।
এবার কথা হবে—তবে নীরবতা ও আবেগ দিয়ে নয়; কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ বা চরিত্রহনন না করে, তথ্য, প্রমাণ, প্রতিউত্তর ও যুক্তি দিয়ে।
সময়ই বলে দেবে—কে কোন পক্ষে ছিল, কারা নিজেদের স্বার্থে গল্প সাজাচ্ছে, আর কে নীরবে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে দায়িত্ব ও চরিত্রটা পালন করে গেছে।
- উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদে চাল নিয়ে নৌকার চেয়ারম্যানের চালবাজি, গুদামে সিলগালা
- উখিয়ায় বার্ষিক শিশু উৎসব ও প্রশিক্ষিত হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ সম্পন্ন
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: দীর্ঘ নীরবতার পর মুখ খুললেন উখিয়া প্রেস ক্লাবের টানা তিনবারের সভাপতি সাঈদ মু. আনোয়ার সম্পর্কিত তথ্য কী?
উত্তর: উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি হিসেবে টানা তিনবার দায়িত্ব পালন করা সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাঁকে ঘিরে বি। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।




মন্তব্য করুন