উখিয়া প্রেস ক্লাবে টানা তিন মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালনের আজ ছিল আমার শেষ কর্মদিন।
২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে যে চেয়ারটিতে বসেছিলাম, সেদিন হয়তো বুঝিনি—একটি চেয়ার শুধু দায়িত্বের প্রতীক নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য প্রত্যাশা, স্বপ্ন, ভালোবাসা, অভিমান আর দায়িত্ববোধ।
আজ সেই চেয়ারটি ছেড়ে দাঁড়ালাম। সময়ের নিয়মই এমন—দায়িত্ব আসে, দায়িত্ব শেষ হয়; নেতৃত্ব বদলায়, নতুন মুখ আসে। কিন্তু কিছু পথচলা কখনো শেষ হয় না। কিছু মানুষ, কিছু মুহূর্ত, কিছু স্মৃতি আর কিছু সম্পর্ক থেকে যায় মনের গভীরে।
উখিয়া প্রেস ক্লাব আমার কাছে শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়। এটি আমার সাংবাদিকতা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই ঘর, এই চেয়ার, সহকর্মীদের মুখ, ব্যস্ততার অসংখ্য দিন, মতের অমিল, তর্ক-বিতর্ক এবং সবশেষে আবার একসঙ্গে পথচলা—সবকিছুই আমার স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে।
চকরিয়ায় বৃত্তি পরীক্ষার নামে রমরমা বাণিজ্য, প্রতারনার শিকার শিক্ষার্থীরা, ১৪৫ বিদ্যালয়ে জরুরি নোটিশ
তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়তো সবার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। কোথাও ভুল হয়েছে, কোথাও সিদ্ধান্তে ঘাটতি ছিল। মানুষ হিসেবে সেই সীমাবদ্ধতার দায় আমি স্বীকার করি। তবে সংগঠনের মর্যাদা, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রশ্নে যতটা পেরেছি, আন্তরিক থাকার চেষ্টা করেছি।
এই পথচলায় আমার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সহকর্মীদের ভালোবাসা,সহযোগিতা ও আস্থা।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং আমার বন্ধু নব নির্বাচিত সভাপতি সাইফুর রহিম শাহীন-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি। তাঁর নেতৃত্বে উখিয়া প্রেস ক্লাব আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠুক—এই কামনা করি।
দায়িত্ব হস্তান্তরের এই আয়োজনও আমার কাছে বিশেষ হয়ে থাকবে। উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবুল ফজল, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারীসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাঁদের উপস্থিতি বিদায়ের মুহূর্তটিকে আরও স্মরণীয় করে দিয়েছে।
আমার দায়িত্বকালে সংগঠনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন কমিশন গঠন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাবের উপস্থিতিতে ভোট গ্রহণ এবং নির্বাচনের পর দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হস্তান্তর—এসবই আমাদের সম্মিলিত প্রচেস্টার অংশ। এখানে ব্যক্তিগত কৃতিত্বের চেয়ে বড় হলো সংগঠনের একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।
যাঁরা এই দীর্ঘ পথচলায় পাশে ছিলেন, সাহস জুগিয়েছেন, সমালোচনা করেছেন, ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন কিংবা নীরবে সহযোগিতা করেছেন—সবার প্রতি রইল গভীর কৃতজ্ঞতা।
কখনো কখনো সমালোচনাও মানুষের পথচলার আয়না হয়ে ওঠে। তাই প্রশংসার মতো সমালোচনাকেও আমি এই পথচলার প্রাপ্তি হিসেবেই দেখি।
একটি কথা রেখে যেতে চাই—উখিয়া প্রেস ক্লাব কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এটি আমাদের সবার প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও ঐক্যের ঠিকানা।
নেতৃত্ব বদলাবে, সময় বদলাবে, প্রজন্ম বদলাবে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, ঐক্য, পেশাগত মর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা যেন কখনো হারিয়ে না যায়।
মতের ভিন্নতা থাকুক, বিভেদ নয়। প্রতিযোগিতা থাকুক, প্রতিহিংসা নয়। সমালোচনা থাকুক, অসম্মান নয়।
আজ আমি সভাপতির চেয়ার থেকে বিদায় নিচ্ছি। কিন্তু উখিয়া প্রেস ক্লাব থেকে নয়। একজন সহকর্মী হিসেবে প্রয়োজনের সময়ে পাশে থাকার চেষ্টা থাকবে। কারণ কিছু সম্পর্ক কোনো পদ, পরিচয় কিংবা মেয়াদের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না।
তিন মেয়াদের দায়িত্ব শেষ হলো আজ। চেয়ার ছেড়েছি—কণ্ঠ নয়। পদ ছেড়েছি—অঙ্গীকার নয়। দায়িত্ব ছেড়েছি—ভালোবাসা নয়।
একটি অধ্যায়ের পর্দা নামল। কিন্তু সাংবাদিকতার পথচলা থামেনি। নতুন পরিচয়ে, নতুন ভূমিকায় পথ চলব। আর সেই পথের কোথাও না কোথাও উখিয়া প্রেস ক্লাব থেকে যাবে—একটি স্মৃতি হয়ে, একটি সম্পর্ক হয়ে, জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে।
বিদায় সভাপতির চেয়ারকে। বিদায় নয় সহকর্মীদের।বিদায় নয় সেই প্রিয় উখিয়া প্রেস ক্লাবকে, যেখানে পেশার ব্যস্ততার ভিড়ে তৈরি হয়েছে কত গল্প, কত স্মৃতি, কত সম্পর্ক। শুধু দায়িত্ব থেকে সাময়িক দূরত্ব—সম্পর্ক থেকে নয়।
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: চেয়ার ছেড়েছি, সম্পর্ক নয় সম্পর্কিত তথ্য কী?
উত্তর: উখিয়া প্রেস ক্লাবে টানা তিন মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালনের আজ ছিল আমার শেষ কর্মদিন। ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।




মন্তব্য করুন