হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

ইনানীতে রিসোর্টে আগুন: চোখের পানিতে বিদায় নিলেন ফতুল্লায় একই পরিবারের তিনজন

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
📌 সংক্ষেপ: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। বুধবার বাদ জোহর ফতুল্লার পোস্ট…

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়।

বুধবার বাদ জোহর ফতুল্লার পোস্ট অফিস সংলগ্ন শাহজাহান রোলিং মিলের পাশে বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়। নিহতরা হলেন ফারিহা কবির (৩৩), তাঁর ছোট ভাই নাফিস তেহামি (২৬) এবং ফারিহার সাড়ে ছয় বছর বয়সী ছেলে ফাইজান নূর। তাঁদের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টার্স ইন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। ফারিহা কবির স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। তাঁর ছেলে ফাইজান নূর চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের কেজি-টু শ্রেণিতে পড়ত।

ফারিহার স্বামী নূর আলম ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে কর্মরত। নাফিসের বাবা জিহাদুল কবির একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। নিহত ফারিহা কবিরের চাচাতো বোন সাদিয়া বিনতে হাবিব জানান, তাঁদের দাদা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে ফারিহা, নাফিসসহ পরিবারের সদস্যরা ফতুল্লা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের রেলওয়ে কলোনিতে বসবাস করতেন। সেখানেই তাঁদের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। ফতুল্লায় তাঁদের নিজস্ব বাড়িও রয়েছে।

আরও পড়ুন

ব্যাংক পরিচালনায় পরিবারের সদস্য কমানো ও মেয়াদ ছাঁটাইয়ের প্রস্তাবে অনড় বাংলাদেশ ব্যাংক

সাদিয়া জানান, ২০১৯ সালে ফারিহার বিয়ে হয়। তাঁর স্বামী ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করায় তাঁরা চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। চলতি মাসের ১৪ তারিখে ফারিহা ও তাঁর এক খালাতো বোনসহ পরিবারের ১০ সদস্য কক্সবাজারে বেড়াতে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টার বাসে তাঁদের ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বাস তাঁদের রিসোর্ট থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। রিসোর্টের একটি কক্ষে তিনজন এবং অন্য একটি কক্ষে ছয়জন ছিলেন।

সাদিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টে আগুন লাগে। এ সময় তিনজন জানালার থাই গ্লাস ভেঙে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। সকাল পৌনে ৮টার দিকে তাঁর চাচা ফোন করে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানান। পরে তাঁরা স্বজনদের মৃত্যুর সংবাদ পান। তিনি আরও জানান, ফারিহার স্বামী জরুরি কাজে ঘটনার আগের রাতে সেখান থেকে চলে আসায় প্রাণে বেঁচে যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের দাদা ও নানার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দাদার কবরের পাশেই তাঁদের সমাহিত করা হয়েছে। স্বজনেরা জানান, একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে তাঁরা শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তাঁদের ভাষায়, একটি দুর্ঘটনায় পরিবারের একটি প্রজন্ম যেন শেষ হয়ে গেল। বিশেষ করে মেধাবী তরুণ নাফিসকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল। এখন সেই স্বপ্ন শুধুই স্মৃতি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

তাঁদের অভিযোগ, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে হয়তো এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো। পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, তাঁদের সঙ্গে কক্সবাজারে যাওয়া আরেক খালাতো বোন মেহজাবিনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এবং অন্য দুই খালাতো বোন ইসরাত জাহান ও লায়লা জাহান নাবিলাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দাফন করা হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের এই তিন সদস্যকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: ইনানীতে রিসোর্টে আগুন: চোখের পানিতে বিদায় নিলেন ফতুল্লায় একই পরিবারের তিনজন সম্পর্কিত তথ্য কী?

উত্তর: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

জাতীয়
Card Image

ইনানীতে রিসোর্টে আগুন: চোখের পানিতে বিদায় নিলেন ফতুল্লায় একই পরিবারের তিনজন

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

ইনানীতে রিসোর্টে আগুন: চোখের পানিতে বিদায় নিলেন ফতুল্লায় একই পরিবারের তিনজন

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
Print Image
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। বুধবার বাদ জোহর ফতুল্লার পোস্ট অফিস সংলগ্ন শাহজাহান রোলিং মিলের পাশে বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়। নিহতরা হলেন ফারিহা কবির (৩৩), তাঁর ছোট ভাই নাফিস তেহামি (২৬) এবং ফারিহার সাড়ে ছয় বছর বয়সী ছেলে ফাইজান নূর। তাঁদের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টার্স ইন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। ফারিহা কবির স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। তাঁর ছেলে ফাইজান নূর চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের কেজি-টু শ্রেণিতে পড়ত। ফারিহার স্বামী নূর আলম ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে কর্মরত। নাফিসের বাবা জিহাদুল কবির একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। নিহত ফারিহা কবিরের চাচাতো বোন সাদিয়া বিনতে হাবিব জানান, তাঁদের দাদা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে ফারিহা, নাফিসসহ পরিবারের সদস্যরা ফতুল্লা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের রেলওয়ে কলোনিতে বসবাস করতেন। সেখানেই তাঁদের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। ফতুল্লায় তাঁদের নিজস্ব বাড়িও রয়েছে। সাদিয়া জানান, ২০১৯ সালে ফারিহার বিয়ে হয়। তাঁর স্বামী ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করায় তাঁরা চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। চলতি মাসের ১৪ তারিখে ফারিহা ও তাঁর এক খালাতো বোনসহ পরিবারের ১০ সদস্য কক্সবাজারে বেড়াতে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টার বাসে তাঁদের ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বাস তাঁদের রিসোর্ট থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। রিসোর্টের একটি কক্ষে তিনজন এবং অন্য একটি কক্ষে ছয়জন ছিলেন। সাদিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টে আগুন লাগে। এ সময় তিনজন জানালার থাই গ্লাস ভেঙে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। সকাল পৌনে ৮টার দিকে তাঁর চাচা ফোন করে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানান। পরে তাঁরা স্বজনদের মৃত্যুর সংবাদ পান। তিনি আরও জানান, ফারিহার স্বামী জরুরি কাজে ঘটনার আগের রাতে সেখান থেকে চলে আসায় প্রাণে বেঁচে যান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের দাদা ও নানার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দাদার কবরের পাশেই তাঁদের সমাহিত করা হয়েছে। স্বজনেরা জানান, একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে তাঁরা শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তাঁদের ভাষায়, একটি দুর্ঘটনায় পরিবারের একটি প্রজন্ম যেন শেষ হয়ে গেল। বিশেষ করে মেধাবী তরুণ নাফিসকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল। এখন সেই স্বপ্ন শুধুই স্মৃতি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে হয়তো এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো। পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, তাঁদের সঙ্গে কক্সবাজারে যাওয়া আরেক খালাতো বোন মেহজাবিনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এবং অন্য দুই খালাতো বোন ইসরাত জাহান ও লায়লা জাহান নাবিলাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দাফন করা হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের এই তিন সদস্যকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×